যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। এ ঘটনায় তাঁকে কোনোভাবে ফাঁসানো যায় কি না, এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের মে মাসের পদোন্নতি নিয়ে অনুসন্ধান চলছেই। একই সঙ্গে দেশে আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ বাণিজ্যের যুগ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এসব তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁসের জন্য আমাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া যায় না কোনভাবে? মে ২০২৬-এর পদোন্নতির জন্য তো আমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবারও প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ বাণিজ্যের যুগ শুরু হলো!’

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদে গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থীর এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

তবে পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা শুরুর মাত্র ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বিপাকে পড়েন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসা চাকরিপ্রার্থীরা।

পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। মতিঝিলের বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কলোনি উচ্চবিদ্যালয়, বালক উচ্চবিদ্যালয় ও বাঙলা কলেজ কেন্দ্রের আশপাশে পরীক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা যায়। তাঁরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিক্ষোভকারী পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় এসে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের খবরে তাঁরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।