বিমানবন্দরের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার ক্ষোভ থেকেই সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। বিমানবন্দরের একটি ঘটনাকে ইস্যু করে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন সিনিয়র নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে কথা বলতেই পারেন। প্রয়োজনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের শাসাতেও পারেন। কিন্তু বিমানবন্দরের ওই ঘটনাকে ইস্যু করে তাঁকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার, রিমান্ডের আদেশ বাতিল এবং তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যকে হাতকড়া পরিয়ে রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও অনিয়ম নিয়ে কথা বলার কারণে যদি কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাবেন না।
সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ যাতে কথা বলতে না পারে, আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে সরকার সে বার্তা দিতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অন্যায়, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ওপর বিএনপি সরকারের ক্ষোভের কারণও তারা জানেন বলে দাবি করেন তিনি। বিএনপি ছেড়ে আখতারুজ্জামান কেন জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন, সেটিই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভের কারণ বলে মন্তব্য করেন সেলিম উদ্দিন।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের হাতে হাতকড়া পরিয়ে সরকার দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে হাতকড়া পরিয়েছে। তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার না করে বিমানবন্দরের অন্যায়, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদের ৩৪ জন সদস্য বিমানবন্দরে গেলেও বিমান কর্তৃপক্ষ তাঁদের কোনো প্রটোকল দেয়নি, বরং হয়রানি করেছে। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কেবল প্রবাসীদের হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, কোনো অপরাধ করেননি বলে দাবি করেন তিনি। বিমানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অসত্য ও বাস্তবতার পরিপন্থি আখ্যা দিয়ে এ জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান কামাল হোসেন।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সরকারের দায়িত্ব ছিল মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানির চিত্রে তার বিপরীত পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করায় গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি অবিলম্বে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মুক্তি দিয়ে বিমানবন্দরের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান এবং প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ড. মোবারক হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সমাবেশ শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, প্রেসক্লাব হয়ে মৎস্য ভবন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
বিএনপি ছাড়ার ‘শাস্তি’ হিসেবেই আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার: জামায়াত
অনিয়মের প্রতিবাদ করায় মুক্তিযোদ্ধার হাতে হাতকড়া






