আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে এককভাবে মেয়র প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরই মধ্যে সিটি করপোরেশনভিত্তিক প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে দলটি। ১৩ সিটিতে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে, তাদের বিষয়টি দলের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।
জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় ঢাকার দুই সিটিতে ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েম ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিনের নাম রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রার্থী করা হয়েছে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীকে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সেলিম উদ্দিনকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত জুনে ঢাকার দুই সিটিতে তাদের নাম সামনে আসে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী। তিনি নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১০ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে থাকছেন ড. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান। নারায়ণগঞ্জে মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বারকে প্রার্থী করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে তার নাম দলীয়ভাবে ঘোষণার কথাও এর আগে প্রকাশ্যে এসেছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনে জামায়াতের প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। কুমিল্লা সিটিতে মহানগর জামায়াতের আমির মোসলেহ উদ্দিনকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের নাম রয়েছে। কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে প্রার্থীদের বিষয়ে দলীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্তের কথা সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এসেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে থাকছেন মহানগর আমির এটিএম আজম। রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে প্রার্থী করা হয়েছে। বগুড়া সিটি করপোরেশনে দলের প্রার্থী হিসেবে থাকছেন আ.খ.ম. আবদুল মালেক। এসব সিটেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই ও প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী ১৩ সিটে জামায়াতের প্রার্থীরা হলেন—
- ঢাকা দক্ষিণ আবু সাদিক কায়েম
- ঢাকা উত্তর সেলিম উদ্দিন
- চট্টগ্রাম অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী
- গাজীপুর ড. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান
- নারায়ণগঞ্জ মোহাম্মদ আবদুল জব্বার
- বরিশাল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল
- কুমিল্লা মোসলেহ উদ্দিন
- রংপুর এটিএম আজম
- রাজশাহী ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
- সিলেট নুরুল ইসলাম বাবুল
- ময়মনসিংহ অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সার
- খুলনা মাহফুজুর রহমান
- বগুড়া আ.খ.ম. আবদুল মালেক
জামায়াতের এই প্রস্তুতির রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অংশ হিসেবে আসন সমঝোতায় অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই সমীকরণ থেকে আলাদা কৌশল নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির পরিকল্পনা হচ্ছে সিটি করপোরেশনগুলোতে নিজস্ব প্রার্থী দিয়ে সরাসরি ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা।
জামায়াতের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক অবস্থান, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচনী সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহানগর ও স্থানীয় সাংগঠনিক কাঠামোর সুপারিশও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কয়েকটি সিটি করপোরেশনে জামায়াতের প্রার্থীদের নাম ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশ্যে এলেও সবগুলো সিটে আনুষ্ঠানিকভাবে একসঙ্গে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে দলীয়ভাবে চূড়ান্ত করা তালিকায় শেষ মুহূর্তে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
তবে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য এবং স্থানীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি বলছে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে দলটি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। ১৩ সিটে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ সফল হলে জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাঠে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি ও জনপ্রিয়তার বড় পরীক্ষা হবে।








