স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নতুন আচরণবিধিমালা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য পৃথক আচরণবিধি প্রকাশ করা হলেও মূল বিধানগুলো প্রায় একই। গতকাল রোববার রাতে এসব বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়ভাবে। নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি। এর অংশ হিসেবেই নতুন আচরণবিধি জারি করা হয়েছে।

নতুন আচরণবিধিতে প্রচারণার ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রচারে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল ও বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। এসব প্রচারসামগ্রীর আকার ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধান দেওয়া হয়েছে।

এবার প্রার্থীরা ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া তথ্য ছড়ানো, চরিত্র হনন এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনলাইন প্রচারণা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের আইডি ও ই-মেইল ঠিকানা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।

আগের মতোই প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের প্রচার চালানো যাবে না। প্রচারণার জন্য নির্ধারিত সময় মেনে চলতে হবে। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে জনসভা বা মিছিলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজন সমর্থক থাকতে পারবেন।

আচরণবিধিতে ভোটারদের প্রভাবিত করার লক্ষ্যে তাঁদের বা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্যে ভোটারদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহও করা যাবে না।

নির্বাচনী প্রচারে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা, সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের মেয়র বা মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং প্রশাসকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।

এ ছাড়া প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কোনো ব্যক্তিও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রাখছে।