২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৪ মার্চ) দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়া আগামী ২৫ মার্চ বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগরী জামায়াতের শীর্ষ নেতারা সভায় বক্তব্য রাখবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৬ এ মার্চের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ঐ দিন সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়া সংগঠনের সব পর্যায়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে জামায়াতের আমিরের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাওয়া নিয়ে জামায়াতের রাজনীতির নয়া বন্দোবস্তের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটি দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থান নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে ১৯৭৫-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াত পুনরায় সক্রিয় হলেও, মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অন্যতম প্রধান সমালোচনার জায়গা হিসেবে থেকে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনকে অনেকেই দলটির রাজনৈতিক অবস্থান পুনঃনির্ধারনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। এটি কি শুধুই প্রতীকী অংশগ্রহণ, নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সূচনা—তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিতর্কের জেরে জামায়াতের একাধিক সিনিয়র নেতা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে দণ্ডিত হন, যাদের কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। দলটি বরাবরই এসব বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে এসেছে, যদিও এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে গভীর বিভাজন রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতের এই কর্মসূচি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস উদযাপন নয়, বরং নিজেদের অবস্থান নতুনভাবে উপস্থাপনের একটি প্রচেষ্টা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। স্বাধীনতা দিবসের মতো সংবেদনশীল ও জাতীয় আবেগের সঙ্গে যুক্ত একটি দিনে সক্রিয় উপস্থিতি দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংকেত হতে পারে।