আল্লামা সাঈদী: একটি কণ্ঠ, একটি জীবন, একটি অমলিন উত্তরাধিকার

বাংলাদেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাদের প্রভাব তাদের জীবদ্দশার গণ্ডি পেরিয়ে যায়। তারা শুধু একটি সময়ের মানুষ হয়ে থাকেন না; তাদের কণ্ঠ, চিন্তা, বক্তব্য এবং মানুষের সঙ্গে তৈরি করা সম্পর্ক পরবর্তী প্রজন্মের স্মৃতিতেও জায়গা করে নেয়। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছিলেন তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব।
২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তার কণ্ঠ থেমে যায়নি। আজও বাংলাদেশের কোনো কোনো ঘরে তার পুরোনো ওয়াজ শোনা যায়। কোনো দোকানের স্পিকারে বাজে তার তাফসির। কোনো লঞ্চের ডেকে, কোনো দূরপাল্লার বাসে কিংবা মোবাইল ফোনের পর্দায় তার বক্তব্য শুনছেন মানুষ।
ক্যাসেট থেকে সিডি, সিডি থেকে ইউটিউব—মাধ্যম বদলেছে, কিন্তু তার বক্তব্যের প্রতি শ্রোতাদের আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
তার অনুসারীদের কাছে এটি কেবল একজন জনপ্রিয় বক্তার গল্প নয়। এটি এমন একজন আলেমের গল্প, যিনি কোরআনের কথা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন এবং যার কণ্ঠ বহু মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, জীবনদর্শন ও ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে মিশে গেছে।
পিরোজপুর থেকে বিশাল জনসমাজ
১৯৪০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে জন্ম নেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। বাবার কাছেই তার প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষার শুরু। পরে সরসিনা আলিয়া মাদরাসা ও খুলনা আলিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করেন।
তবে তাকে জাতীয়ভাবে পরিচিত করে তোলে তার ওয়াজ ও তাফসির।
বাংলাদেশের ধর্মীয় সংস্কৃতিতে ওয়াজ মাহফিল শুধু ধর্মীয় বক্তব্যের স্থান নয়; এটি মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই মঞ্চে সাঈদীর বক্তৃতা দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।
শীতের রাতের খোলা মাঠে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি, তার বক্তব্য শোনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের ছুটে আসা—এসবই একসময় তার পরিচিত দৃশ্য হয়ে ওঠে।
তার বিশেষত্ব ছিল কোরআনের বিষয়গুলোকে সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা। তার অনুসারীরা তাকে ভালোবেসে ডাকতেন—‘কোরআনের পাখি’।
এই জনপ্রিয়তা শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও তার বক্তব্যের ব্যাপক প্রচার ছিল। তার অনুসারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার দাওয়াতি কার্যক্রম ও বক্তব্যের মাধ্যমে বহু মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং কেউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করেন।
এখানে নির্দিষ্ট সংখ্যার দাবি নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন পরিসংখ্যান সহজলভ্য নয়। তবে তার বক্তব্য যে বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রোতার কাছে পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক দাওয়াতি কার্যক্রম ও প্রচুর রেকর্ডিংয়ের উপস্থিতি স্পষ্ট ধারণা দেয়।
ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া কণ্ঠ
সাঈদীর জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হয়তো কোনো বিশাল মাহফিল নয়—বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন।
একটি সময় ছিল, যখন বাংলাদেশের অসংখ্য ঘরে ক্যাসেট প্লেয়ারে তার ওয়াজ বাজত। বাবা শুনতেন, ছেলে শুনত। কেউ রান্না করতে করতে শুনতেন, কেউ দোকানে বসে, কেউ যাত্রাপথে।
একজন বক্তা এভাবেই ধীরে ধীরে মানুষের দৈনন্দিন শ্রবণজগতের অংশ হয়ে ওঠেন।
এই ধারাবাহিকতা প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন রূপ পেয়েছে। ক্যাসেটের জায়গায় এসেছে সিডি, পরে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। আজও তার পুরোনো বক্তব্য অনলাইনে সহজেই পাওয়া যায়।
এ কারণেই তার অনুসারীদের কাছে সাঈদীর মৃত্যু একটি শারীরিক অনুপস্থিতি; তার বক্তব্যের অনুপস্থিতি নয়।
মঞ্চ থেকে জাতীয় সংসদ
সাঈদীর জীবন শুধু ধর্মীয় বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯৭৯ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন।
সংসদে তার উপস্থিতির একটি বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়গুলোকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা।
তার অনুসারীদের মতে, সংসদে নামাজের জন্য বিরতির মতো বিষয় সামনে আনা ছিল ধর্মীয় অনুশীলনের প্রতি রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা।
একইভাবে কওমি মাদরাসা শিক্ষার স্বীকৃতির প্রশ্নও তিনি সংসদে তুলেছিলেন। তার নিজস্ব জীবনীভিত্তিক সূত্র অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি কওমি সনদের স্বীকৃতি এবং কওমি মাদরাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য একটি শিক্ষা বোর্ড গঠনের বিষয়ে সংসদে বিল উত্থাপন করেছিলেন।
আজকের বাংলাদেশে কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি নিয়ে যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তার অনেক আগে থেকেই এই প্রশ্ন সংসদীয় আলোচনায় তোলার ঘটনাটি সাঈদীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তার অনুসারীরা স্মরণ করেন। অর্থাৎ, তার রাজনীতি শুধু দলীয় বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; ধর্মীয় শিক্ষা, ধর্মীয় অনুশীলন এবং সমাজে ধর্মের ভূমিকা নিয়েও তিনি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি করেছিলেন।
জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়
তবে সাঈদীর জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার। ২০১০ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। সাঈদী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তার সমর্থকরা শুরু থেকেই দাবি করে আসেন, বিচারটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য ছিল, এটি ১৯৭১ সালের অপরাধের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে কয়েকটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ হয়। পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই বিচারকে ঘিরে বাংলাদেশের সমাজে যে গভীর মতভেদ তৈরি হয়েছে, তা আজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। একদিকে আদালতের রায় রয়েছে; অন্যদিকে রয়েছে তার সমর্থকদের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা। সাঈদীর জীবনকে বুঝতে হলে এই দুই বাস্তবতাকেই স্বীকার করতে হয়।
কারাগার থেকে শেষ বিদায়
দীর্ঘ বন্দিজীবনের শেষদিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তার পরিবার ও দল বিভিন্ন সময় চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। অন্যদিকে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানায়, তাকে চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।
১৪ আগস্ট ২০২৩ সালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএসএমএমইউতে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের সামনে বিপুল সংখ্যক অনুসারী জড়ো হন। পরে তার জানাজায়ও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
এই দৃশ্য একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছিল—রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সাঈদীর সঙ্গে একটি বিশাল মানুষের আবেগগত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।
মৃত্যুর পরও যে কণ্ঠ বেঁচে থাকে
সাঈদীর মৃত্যুর পর তার বক্তব্য নতুন করে মানুষের কাছে পৌঁছাতে থাকে। যে মানুষটি একসময় ক্যাসেটের মাধ্যমে শ্রোতার কাছে পৌঁছেছিলেন, তার কণ্ঠ এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আরও সহজলভ্য। এখানেই তার উত্তরাধিকারের একটি বিশেষ দিক রয়েছে।
অনেক রাজনৈতিক নেতার প্রভাব সংগঠন বা নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু সাঈদীর প্রভাবের একটি বড় অংশ তৈরি হয়েছিল মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ভেতরে—বাড়িতে, মাহফিলে, যাত্রাপথে, ধর্মীয় আলোচনায়।
একটি প্রজন্ম তাকে সরাসরি শুনেছে। পরবর্তী প্রজন্ম তাকে শুনছে রেকর্ডিংয়ে। এভাবেই তার কণ্ঠ একটি প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পৌঁছে যাচ্ছে।
২০২৬: আবার জাতীয় সংসদে
সাঈদীর মৃত্যুর প্রায় তিন বছর পর ২০২৬ সালের ১২ মার্চ তার নাম আবার জাতীয় সংসদের আলোচনায় আসে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণের পাশাপাশি সাবেক জামায়াত নেতাদের নামও শোকপ্রস্তাবের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়; এর মধ্যে ছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। এ নিয়ে সংসদে মতভেদও প্রকাশ পায়।
ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি দেখিয়ে দেয়, সাঈদীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তার মৃত্যুর পরও বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুনভাবে আলোচিত হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত কী রয়ে গেল?
সাঈদীর জীবনকে তার অনুসারীরা দেখেন একজন আলেম ও দাঈর দীর্ঘ কর্মযাত্রা হিসেবে।
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি কোরআনের তাফসির করেছেন, মানুষের সামনে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন এবং ধর্মীয় জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
একজন আলেম এবং একজন রাজনীতিক—এই দুই পরিচয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠেছিল তার দীর্ঘ জীবনের অনন্য অধ্যায়। তার অনুসারীদের কাছে তার সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো কোনো রাজনৈতিক পদ নয়।
বরং মানুষের হৃদয়ে তৈরি হওয়া সেই সম্পর্ক—যেখানে একজন বাবা তার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তার ওয়াজ শুনেছেন, যেখানে একটি পরিবার বছরের পর বছর তার তাফসির শুনেছে, কিংবা যেখানে কোনো যাত্রাপথে হঠাৎ তার পরিচিত কণ্ঠ শুনে কেউ থমকে গেছেন।
সেই স্মৃতিই আজ তার উত্তরাধিকারের একটি বড় অংশ।
ইতিহাস অবশ্যই তার রাজনৈতিক ভূমিকা, ১৯৭১ সালের বিচার এবং অন্যান্য বিতর্ককে নিয়ে আরও আলোচনা করবে। কিন্তু একই সঙ্গে ইতিহাসের একটি বড় সত্য হলো—মানুষের স্মৃতিও ইতিহাসের অংশ। সাঈদীর অনুসারীদের কাছে তিনি সেই স্মৃতির একজন গভীরভাবে প্রিয় মানুষ।
তাদের বিশ্বাস, তার কণ্ঠে তারা যে কোরআনের কথা শুনেছেন, যে ধর্মীয় শিক্ষা পেয়েছেন এবং যে অনুপ্রেরণা তাদের জীবনে এসেছে—তা তার শারীরিক অনুপস্থিতির সঙ্গে শেষ হয়ে যায়নি।
আজও হয়তো কোনো ঘরে তার ওয়াজ বাজছে। কোনো দোকানে কেউ শুনছেন।
কোনো বাসযাত্রী পথ চলতে চলতে শুনছেন।
কোনো লঞ্চের ডেকে কেউ মোবাইলের পর্দায় তার বক্তব্য চালিয়ে দিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে মাধ্যম বদলাবে, প্রযুক্তি বদলাবে, শ্রোতার প্রজন্মও বদলাবে।
কিন্তু তার অনুসারীদের বিশ্বাস অটুট— আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মানুষের হৃদয়ে অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন। কারও কাছে তিনি কোরআনের কণ্ঠ। কারও কাছে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। আর তার অসংখ্য অনুসারীর কাছে— তিনি একজন প্রিয় আলেম, যার কণ্ঠ তাদের জীবনের স্মৃতি, বিশ্বাস ও ভালোবাসার সঙ্গে চিরদিন মিশে থাকবে।
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। ১৯৪০–২০২৩। একটি কণ্ঠ। একটি জীবন। একটি অমলিন স্মৃতি।









