'ওয়াশিংটনের ছায়া' ছাড়িয়ে সৌদির নতুন নিরাপত্তা বলয়!
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের সূচনা হলো। সৌদি আরবের মক্কায় আল-সাফা প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তি কেবল তিনটি দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন কাঠামোই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এবং তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তির উদ্দেশ্য হলো যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং সদস্য তিন রাষ্ট্রের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র আক্রমণকে তিন রাষ্ট্রের সবার বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা।
চুক্তিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণের কথা বলা হলেও, সামরিক বাধ্যবাধকতার বিস্তারিত কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি। তুরস্কের কর্মকর্তারা এটিকে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্যও এতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে।
এই ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে। নতুন এই ব্যবস্থায় তিন দেশের সামরিক সক্ষমতা পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। সৌদি আরবের প্রধান শক্তি অর্থনীতি ও জ্বালানি সম্পদ। তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী এবং দ্রুত বিকাশমান নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প। অন্যদিকে পাকিস্তানের রয়েছে বড় স্থলবাহিনী ও পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা। এই তিন ধরনের সক্ষমতার সমন্বয়ই চুক্তিটিকে কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। এই জোটকে ন্যাটোর সঙ্গে এক কাতারে রাখা যাবে না। এটি ন্যাটোর মতো সমন্বিত সামরিক কমান্ড, যৌথ যুদ্ধ পরিচালনা কিংবা স্বয়ংক্রিয় সামরিক প্রতিক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে না। বরং এটি যৌথ পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।
প্রায় এক বছর ধরে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করলে আলোচনাও গতি পায়। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির যুদ্ধ এবং পরবর্তী ইরানি প্রতিশোধমূলক হামলাগুলো এই উদ্যোগকে দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।
এক বছর আগেও সৌদি আরবের কাছে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিই যথেষ্ট বলে মনে হচ্ছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির ওপরও আস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর রিয়াদ উপলব্ধি করে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা কিংবা যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না বলেও সৌদি আরবের ধারণা তৈরি হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান হিসেবেও মক্কাকে বেছে নেওয়া নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। ইসলামের পবিত্রতম নগরীতে এই চুক্তি স্বাক্ষর তার প্রতীকী গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উপস্থিতি এই উদ্যোগে সামরিক অঙ্গীকারের গুরুত্বও স্পষ্ট করে।
তবে এই চুক্তি নিয়ে একটি ভুল ধারণা ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলেই অন্য দুই দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। বাস্তবে চুক্তিতে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
এতে কোথাও বলা হয়নি যে, কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলেই অন্য সদস্যদের সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে। ন্যাটোর বহুল আলোচিত ‘আর্টিকেল–৫’-এর মতো স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এখানে নেই। বরং এটি মূলত একটি শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক বার্তা। অর্থাৎ, তিন দেশের যেকোনো একটিকে আঘাত করার আগে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে তিন দেশের সম্মিলিত সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিতে হবে।
অর্থাৎ এই চুক্তির লক্ষ্য তাৎক্ষণিক যুদ্ধ নয়; বরং যুদ্ধ নিরুৎসাহিত করা। যৌথ পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সমন্বয়ের মাধ্যমে এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরও গভীর প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করবে। তবে শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রতিটি রাষ্ট্রই তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে স্বাধীনভাবে নেবে। সেই অর্থে এটি ন্যাটোর অনুচ্ছেদ–৫ ধরনের বাধ্যতামূলক প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়; বরং একটি কৌশলগত প্রতিরোধ জোট।
নিঃসন্দেহে এই চুক্তি ইরান ও ইসরায়েল—উভয় দেশের কৌশলগত হিসাবকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। সৌদি আরবের ওপর ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এখন শুধু রিয়াদের সামর্থ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে যুক্ত হবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের অবস্থানও। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও একটি নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা অনেকটাই ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়েছে, সৌদি আরব এখন নিরাপত্তার বিকল্প কাঠামো গড়ে তোলার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। মক্কা চুক্তি সেই কৌশলেরই প্রতিফলন।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত এখনো তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই অবস্থান করছে। ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন এই জোটে দেশটির দ্রুত যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম। ভবিষ্যতে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে আবুধাবিকে তার পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
তবে আরেকটি বিষয়ও মনে রাখা জরুরি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পর ইরান ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তেল স্থাপনা, বন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি।
এর পেছনে কেবল কূটনৈতিক সংযম নয়, কঠিন বাস্তবতারও প্রভাব রয়েছে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দেশটিতে উল্লেখযোগ্য শিয়া জনগোষ্ঠী বসবাস করে। আফগানিস্তান সীমান্তে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংকটও এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এর সঙ্গে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ। ফলে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া পাকিস্তানের জন্য নতুন নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারত।
সে কারণেই ইসলামাবাদ একদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে 'রেড লাইন' বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক মধ্যস্থতার চেষ্টাও চালিয়েছে। কিন্তু সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করেনি। কারণ মক্কা চুক্তি কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করে না। শেষ পর্যন্ত প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে এটিও সত্য, পাকিস্তান কেবল কূটনৈতিক অবস্থানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইরান-সংকট শুরু হওয়ার পর ২০২৬ সালের এপ্রিলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা জোরদার করতে তারা প্রায় আট হাজার সেনা, জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে। ঐতিহাসিকভাবেও পাকিস্তানি বাহিনী সৌদি আরবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে তারা ইরান বা হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আরেকটি সূক্ষ্ম দিক এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবের দৃষ্টিতে ইরান একটি প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও পাকিস্তান ও তুরস্কের জন্য বাস্তবতা ভিন্ন। দুই দেশেরই ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সীমান্ত, বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্বার্থ রয়েছে। ফলে একদিকে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনে ইরানের সঙ্গেও যোগাযোগ ও গোয়েন্দা সহযোগিতা অব্যাহত রাখছে।
অর্থাৎ এখানে সম্পর্কের হিসাব সরলরৈখিক নয়। কে কাকে সেনা পাঠাবে, কে কাকে গোয়েন্দা তথ্য দেবে কিংবা কোনো সংকটে কার পাশে কীভাবে দাঁড়াবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এক বাক্যে দেওয়া যায় না। প্রতিটি রাষ্ট্র একই সঙ্গে সহযোগিতা, প্রতিযোগিতা এবং কৌশলগত ভারসাম্যের নীতি অনুসরণ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি বরাবরই এমন বহুস্তরবিশিষ্ট।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন বিশ্লেষণেও এই জোটের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার একটি ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। তিন দেশের সম্মিলিতভাবে রয়েছে পাকিস্তানের প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড, সৌদি আরব ও তুরস্কের জি–২০ সদস্যপদ, ওপেকে সৌদি আরবের নেতৃত্ব, ন্যাটোতে তুরস্কের সদস্যপদ ও বৃহৎ সেনাবাহিনী, প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ডলারের সম্মিলিত অর্থনীতি, প্রায় এক হাজার যুদ্ধবিমান, প্রায় ২০ লাখ সামরিক সদস্য, সাত হাজারের মতো ট্যাংক, প্রায় ৯০ হাজার সাঁজোয়া যান, ৩৪টি সাবমেরিন এবং প্রায় ৫০০ যুদ্ধজাহাজ ও নৌ-যুদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সৌদি আরব ও তুরস্কের এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে। এসব তথ্যের কিছু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়, তবে জোটটির সম্ভাব্য সক্ষমতা নিয়ে যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা স্পষ্ট।
এই চুক্তি ঘোষণার পর ইরানের প্রতিক্রিয়াও তাৎপর্যপূর্ণ। দেশটির সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের ভাষ্য, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগুজে চুক্তি সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দেবে না; যেমনটি বহু বছর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভর করেও তারা পায়নি। একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবকে নিজস্ব নিরাপত্তা বাস্তবতা পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ন্যাটোর বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আবার এটিকে কেবল একটি প্রতীকী রাজনৈতিক ঘোষণাও বলা যাবে না। এটি মূলত এমন একটি কৌশলগত নিরাপত্তা কাঠামো, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এই জোটের প্রকৃত শক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতায় নয়; বরং এর কৌশলগত বার্তায়। সেই বার্তা হলো—উপসাগরীয় নিরাপত্তা নিয়ে এখন থেকে সিদ্ধান্ত শুধু ওয়াশিংটন, তেহরান বা তেল আবিবের হাতে থাকবে না। আঞ্চলিক শক্তিগুলোও নিজেদের নিরাপত্তা স্থাপত্য নিজেরাই নির্মাণ করতে চায়। মক্কা চুক্তি সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে।
#লেখক: সাবিনা আহমেদ, প্রকৌশলী; পররাষ্ট্রনীতি ও ইতিহাসবিষয়ক বিশ্লেষক।









