আয়নাঘর (গোপন বন্দিশালা) নিয়ে সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, "এটা বের করতে দুই বছর লাগলো কেন"—এমন মন্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।


রোববার (২ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তাজুল ইসলাম দাবি করেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা এবং গুম কমিশন যৌথভাবে আয়নাঘরগুলো শনাক্ত করে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পুনর্গঠিত হয় এবং পুনর্গঠনের মাত্র তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই প্রধান আয়নাঘরগুলো খুঁজে বের করা সম্ভব হয়।


তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টিএফআই, জেআইসি এবং আগারগাঁও র্যাব-২-এর অধীনস্থ সিপিসি-৩-এর গোপন বন্দিশালাগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ নির্দেশে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও নেত্র নিউজের সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের সেখানে নেওয়া হয়েছিল। তবে যৌক্তিক কারণে সে সময় দেশীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওই স্থানগুলোতে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।


তাজুল ইসলাম বলেন, টিএফআই-সংক্রান্ত মামলার তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে এর বিচারকার্য চলমান রয়েছে।


তিনি আরও জানান, গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা অপরাধের প্রধান আলামত হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে (পিও ভিজিট) যান। ট্রাইব্যুনালের অনুমতিক্রমে সাংবাদিকরা প্রথমবারের মতো ওই ভয়াবহ ক্রাইম সাইট স্বচক্ষে দেখার সুযোগ পান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।