বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে অস্বীকার করার অর্থই হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তিকে দুর্বল করা। আমরা আজকে যে স্বাধীন ভূখণ্ডে বাস করছি, তার ভৌগোলিক ভিত্তি ১৯৪৭ সালেই রচিত হয়। ৪৭ না হলে অখণ্ড ভারতের ‘নেহেরু ডকট্রিন’র মধ্যে আমাদের চিরকাল বৈষম্য, বিরোধিতা আর জুলুম-নিপীড়নের শিকার হয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের অধীনেই থাকতে হতো। তাই ৪৭-কে অস্বীকার করলে প্রকারান্তরে দেশের স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করা হয়।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঐতিহাসিক পলাশী দিবস (২৩ জুন) উপলক্ষ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে যেন আর কোনো ‘মীরজাফর’ বা ‘ঘসেটি বেগম’ তৈরি হতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমানে বিদেশি গোয়েন্দা এবং দেশীয় কিছু এজেন্সির মাধ্যমে এই ভূখণ্ডেও এক নব্য ‘ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ’ গড়ে তোলার চক্রান্ত চলছে। তারা পর্দার আড়ালে বসে আমাদের জুডিশিয়ারি, সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও পুলিশ প্রশাসনকে করায়ত্ত করার চক্রান্ত করছে। ফ্যাসিবাদী ও আধিপত্যবাদীদের পুনর্বাসনের জন্য ‘ইনক্লুসিভ পলিটিক্স’র নামে নতুন চাল চালা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নবাব সিরাজউদ্দৌলা যেমন কাশিমবাজার কুঠি ও ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ করেছিলেন, তেমনি আজ বাংলাদেশের বীর জনগণকে এই চক্রান্তকারীদের আড্ডায় রাজনৈতিক আঘাত হানতে হবে। আর এই আঘাত হানতে হবে জ্ঞান, শিক্ষা, চরিত্র ও নৈতিকতা দিয়ে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরকে পলাশীর চেতনায় এই তরুণ শক্তিকে জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ড. রেজাউল করিম, সালাহউদ্দিন আইউবী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন প্রমুখ।
‘পলাশী থেকে জুলাই অভ্যুত্থান’ ঢাবিতে ছাত্রশিবিরের আলোচনা : ঢাবি প্রতিনিধি জানান, পলাশী দিবস উপলক্ষ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ : সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও আজাদির সংগ্রামের সিলসিলা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাবির শেখ মুজিবুর রহমান হলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। বিশেষ আলোচক ছিলেন গবেষক ও প্রাবন্ধিক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাবির ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক। বক্তারা পলাশীর যুদ্ধের কারণ, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাব এবং বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রামের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সচেতন ও অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া আলোচনায় ১৭৭০ সালের ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, মসলিন শিল্পের ধ্বংস, নীলচাষ এবং ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতিসহ ব্রিটিশ শাসনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।