বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে ওই সরকারের অভ্যন্তরে বসেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে জনগণের রায়কে পাল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছে। তিনি রিজওয়ানাসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করার দাবি জানান।
আজ শনিবার ঢাকার পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে মামুনুল হক এসব কথা বলেন। বৈঠকে তিনি সভাপতিত্ব করেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারের অনীহার অভিযোগ করে জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ২৪ এপ্রিল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গণসমাবেশের আয়োজন করবে বলেও বৈঠকে ঘোষণা দেওয়া হয়।
দলের বৈঠকে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব অভিযোগ ও তথ্য সামনে আসছে, তা প্রমাণ করে এই নির্বাচন ছিল পরিকল্পিতভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করা একটি নির্বাচন। নির্বাচনের পর সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা ইসলামি দলগুলোকে ইঙ্গিত করে গণমাধ্যমে স্বীকার করেছেন, তারা এ ধরনের কোনো দলকে মূলধারায় আসতে দেননি। এ বক্তব্য কার্যত নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি বৈঠকি সিদ্ধান্তের স্বীকারোক্তি।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও দৃশ্যত অনীহা দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, এমনকি গণভোট বাতিলের লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিট দায়েরের ঘটনাও জনমতের প্রতি অবজ্ঞা এবং চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। জনগণের রায়কে সম্মান না করে আইনি জটিলতার আড়ালে তা বিলম্বিত বা বাতিল করার চেষ্টা গোটা জাতিকে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য করবে।
সরকারের উদ্দেশে খেলাফত মজলিসের এই আমির বলেন, অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে ও নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছে—বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তাদের নাম প্রকাশ করে জাতির সামনে আনতে হবে। অন্যথায় দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।
ইরান পরিস্থিতি সম্পর্কে মামুনুল হক বলেন, ইরানের ওপর চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্র-সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন। অবিলম্বে এই আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং দখলদার ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগ্রাসন ও দখলদারত্বের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে এবং ফিলিস্তিনসহ মুসলিম বিশ্বের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফতের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এই বৈঠক সঞ্চালনা করেন। দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।