প্রতিষ্ঠার ৮৬ বছরে রাজনীতিতে সবচেয়ে ভালো সময় পার করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ব্রিটিশ ভারতে ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর একাধিকবার প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতার ভাগিদার হলেও ইতিহাসে সর্বোচ্চ জনসমর্থন নিয়ে এবারই প্রথম এককভাবে প্রধান বিরোধীদলের আসন দখল করেছে দলটি। জাতীয় সংসদে এককভাবে ৬৮টি আসন নিয়ে বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকা জামায়াতের প্রতিপক্ষ তারই দীর্ঘদিনের মিত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জনরোষে পলাতক ও পরবর্তীতে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও তাদের মিত্র জাতীয় পার্টির অনুপস্থিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এতে দীর্ঘ ২৫ বছরের জোটসঙ্গী বিএনপি-জামায়াত এবার পরস্পরের প্রতিদ্বন্ধী। ফলে সাবেক মিত্র ঠিক কতটা কার্যকর বিরোধীতা গড়ে তুলতে পারবে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ছিল। একইসঙ্গে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জনসমর্থন পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর জন্যেও কর্যকর বিরোধীদলের ভূমিকা রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।
মার্চ ও এপ্রিল মাসের কার্যক্রম বিশ্লষণে করলে দেখা যায়, জামায়াত এখন আর কেবল একটি ধর্মীয় দল হিসেবে নয়, বরং একটি ‘প্রো-অ্যাকটিভ’ বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং রাজপথে ১১-দলীয় জোটের মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শন তাদের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সংসদে কার্যকর বিরোধীদলের ভূমিকায় জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিরোধীদলের আসনে বসে জামায়াতে ইসলামী। ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এতে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেব বক্তব্য রাখন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সংসদে প্রথম ভাষণে তিনি এই সংসদকে ‘জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তস্নাত সংসদ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত সংসদে কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করবে না। সংসদকে একটি ‘প্রাণবন্ত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য স্পিকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দেন বিরোধীদলীয় নেতা।
সংসদের প্রতিটি অধিবেশনে জামায়াত সদস্যরা জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বীকৃতি ও আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। জামায়াত এমপিরা সংসদে দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার প্রতিটি শর্ত যেন বর্তমান সরকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।
বিশেষ করে জুলাই সনদ ইস্যুতে সরকারের অবস্থানের তীব্র সমালোচনায় মুখর ছিল জাতীয় সংসদ। এপ্রিল মাসের অধিবেশনে তারা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন যেন, গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
জুলাই সনদ ও প্রচলিত আইনে কাঠামো সংস্কারের দাবির পাশাপাশি ধর্মীয় দল হিসেবেও নিজেদের অবস্থান দৃঢ় রেখছে জামায়াত। এপ্রিলের শেষ দিকে জামায়াত সদস্যরা সংসদে দেশের আইন ব্যবস্থাকে কুরআনী ও শরিয়াহ মূলনীতির আলোকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব পেশ করেন। নেতারা বলেন, জনগণের নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে ইসলামি মূল্যবোধের বিকল্প নেই।
১৯৯৬ সালের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল হলেও সংসদে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি আইন ও সংবিধান ইস্যুতে জামায়াতের বক্তব্য বহুলাংশেই আবেগ নির্ভর। যা সংসদে বিরোধীদলের অবস্থান দুর্বল করেছে।
তেমনই একজন সাবেক বিএনপি নেত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সম্প্রতি জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি সংসদে আর ১০ জন সাধারণ দর্শকের মতো যেটা দেখেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে এনসিপি অনেক বেশি ভোকাল। সে ক্ষেত্রে আমার জামায়াতকে কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে এবং এটা শুধু আমার পর্যবেক্ষণ না, এটা অন্যান্য অনেকের সঙ্গে কথা বলে আমি এই ফিডব্যাক পেয়েছি।
বিরোধী দলে প্র্যাকটিসিং আইনজীবী থাকলেও প্রত্যাশিত মাত্রায় আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা।
রাজপথে সোচ্চার হওয়ার চেষ্টায় জামায়াত
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুইমাসের মাথায় সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও নিজেদের অবস্থান সংহত করার চেষ্টা করছে প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী। সংস্কার ও জুলাই সনদ ইস্যুতে মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে একক ও জোটগত কর্মসূচি পালন করেছে দলটি।
২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ধাপে ধাপে রাজপথে নানা কর্মসূচি পালন করেছে। মার্চ মাসকে মূলত প্রস্তুতি ও প্রাথমিক মোবিলাইজেশনের সময় হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছে, আর এপ্রিল মাসে এসে সেই কর্মসূচিগুলো দৃশ্যমান হয়েছে।
মার্চ মাসজুড়ে রাজপথে বড় কোনো শোডাউন ছিল না জামায়াত ও তার মিত্রদের। এ সময়ে জোটের পক্ষ থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি সামনে রেখে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা হয়। রাজপথে নামার জন্য প্রস্তুতি হিসেবে নানা মতবিনিময় সভা করেছে দলটি।
এরপর এপ্রিল মাসে আন্দোলন ধারাবাহিক রূপ নেয়। ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় গণমিছিলের মাধ্যমে দৃশ্যমান কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান তুলে ধরেন। এর ধারাবাহিকতায় ২৫ এপ্রিল দেশের সব মহানগরে (ঢাকা বাদে) একযোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "জনগণের রায়ের প্রতি অবহেলা চলতে পারে না এবং রাজপথেই এর জবাব দেওয়া হবে।"
এপ্রিলের শেষদিকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, “সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিলেও সরকার তা উপেক্ষা করছে,” এবং অভিযোগ করেন যে জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে সরকার ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকে বেগবান করতে ছাত্রসমাজসহ সব শ্রেণির মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
স্বাভাবিক গতিতে কূটনৈতিক কার্যক্রম
মার্চ ও এপ্রিল ২০২৬ সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট কূটনৈতিক তৎপরতাও নির্দিষ্ট কিছু ইভেন্টের মাধ্যমে সক্রিয় ছিল। যা দেশীয় গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে। গত ৫ মার্চ জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সংসদের উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
এই দুই মাসে জামায়াতের বিদেশি প্রতিনিধিরা বিভিন্ন ইফতার মাহফিল ও সেমিনারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়েছেন। বিশেষ করে সংস্কার নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি বন্ধু রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেছে দলটি।
ঘুরে ফিরে ফের আলোচনায় একাত্তর ইস্যু
স্বাধীন বাংলাদেশে অভ্যুদয়ের পর থেকে ১৯৭১ সালে জামায়াতের অবস্থান বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। বিগত ফ্যাসিবাদ আমলের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়েও একাত্তর ইস্যুতে জামায়াতকে চাপে রাখার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও সমসাময়িক দলীয় ভূমিকা সংক্রান্ত বিতর্কে জাতীয় সংসদেও চাপের মুখে পরতে হয়েছে জামায়াতে ইসলামীকে। ২৮ এপ্রিল কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের সংসদে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় একই ধরনের বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ একাধিক সরকার দলীয় সংসদ সদস্য। যা রাজনৈতিক পরিসরের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতার প্রটোকল অনুযায়ী গত ২৬ মার্চ প্রথমবারের মতো জাতীয় স্মৃতিসৌধে দল হিসেবে শ্রদ্ধা জানায় জামায়াতে ইসলামী। তবে এতেও শাঁখের করাতে পরতে হয়েছে দলটিকে। এতদিন স্মৃতিসৌধে না যাওয়ার সমোলেচনা করা বম ঘরণার বুদ্ধিজীবীরা জামায়াতের সমালোচনা মুখর হতে দেখা যায়।
ক্যাম্পাসগুলোতে উত্তেজন
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিএনপিপন্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জামায়াতপন্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে এপ্রিলে ছাত্রদলের ‘গুপ্ত’ ক্যাম্পেইন নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম কলেছে শিবিরের এক নেতার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করে ছাত্রদল কর্মীরা। একইসময়ে একটি ভূয়া ফটোকার্ডকে কেন্দ্র করে শাহবাগ থারার ভেতরে ডাকসু ও শিবির নেতাদের উপর হামলাও ছাত্রদল।
এসব ঘটনা রাজনৈতিক মেরুকরণের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে সংগঠন বিস্তার, আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং নিয়োগ বা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মিছিল-পাল্টা মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি এবং মাঝে মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দেশীয় গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। যা নিয়ে সংসদেও উত্তপ্ত বক্তব্য রেখেছেন বিএনপি ও জামায়াতের সংসদ সদস্যরা।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতির প্রতিফলনই এখন ক্যাম্পাস রাজনীতিতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিরোধী রাজনীতির বিস্তার এবং সংগঠন পুনর্গঠনের প্রতিযোগিতা এই উত্তেজনার পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাচ্ছে। একদিকে ছাত্রদল ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক প্রভাব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয় পাওয়া ছাত্রশিবির তাদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তির পাশাপাশি জ্বালানি সংকট, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধীদের প্রতিনিধিত্ব এবং বহিষ্কৃত জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্ক ছিল সোমবারের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একই সময়ে সরকার সংসদে বিরোধীদের আলোচনার সুযোগের কথা বললেও বিরোধীদল জামায়াত রাজপথ ও সংসদ—দুই জায়গাতেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
একাধিক বিল পাসকে কেন্দ্র করে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ ও ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ নিয়ে বিরোধীদলের আপত্তির মধ্যেই সংসদে এসব বিল পাস হয়। বিলগুলোর বিরোধিতা করে বক্তব্য দেওয়ার পর অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। পরে মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ ভবন ত্যাগ করেন তারা। বিরোধীদলের নেতারা এ ঘটনাকে সংসদের ইতিহাসে ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।