ফরিদপুরে এক যুবককের হাতে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা এবং সারা দেশে বজ্রপাত ও সড়ক দুর্ঘটনায় নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, ফরিদপুরে সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নে এক যুবকের কোদালের কোপে নিজের দাদি, ফুপু ও এক প্রতিবেশী নৃশংসভাবে নিহত হওয়ার ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক ও ভয়ংকর। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এ ঘটনার মধ্যদিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই যুবক, নোয়াখালীর কবিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবক এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী নিহতের ঘটনা ঘটেছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাদায়ক। সারা দেশে সড়কে প্রাণহানির ঘটনাগুলো সড়কে অব্যবস্থাপনার চিত্রকে তুলে ধরছে।
তিনি বলেন, মৌসুমি ঝড় ও আকস্মিক বজ্রপাতে নোয়াখালীর তিন উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে তিনজন এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের চৌফলদন্ডী ব্রিজ এলাকায় একজন নিহত হয়েছেন, যা খুবই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসব প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে ব্যথিত, শোকাহত এবং উদ্বেগ প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহর কাছে নিহতদের উত্তম মর্যাদা কামনা করছি।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, মৌসুমি আবহাওয়ার কারণে গত কয়েকদিনে বজ্রপাতে দেশে বেশকিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এজন্য বৈরী আবহাওয়ার সময় নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি বৈরী পরিবেশে যথাযথ ব্যবস্থাসহ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সরকারের উদ্যোগে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও অধিক বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা, বিশেষত বিস্তীর্ণ কৃষি কর্মক্ষেত্রে বজ্রপাত নিরোধক লাইটনিং এরেস্টার স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।
আরেক শোকবার্তায় দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবার উপকণ্ঠে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন আরোহীর সবাই মর্মান্তিকভাবে নিহত এবং ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার নিকটবর্তী বেকাসি তিমুর এলাকায় দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত ও ৮৪ জনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিরীহ মানুষের প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক। নিহতদের পরিবার-পরিজনের শোক কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আমি এসব হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।