ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সদস্যদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে কর্মরত ৩৭০ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সাথে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) হামলার ঘটনার পর থেকে যৌথ বিবৃতিতে এসব সাংবাদিকরা বলেন, রাজধানীর শাহবাগ থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা শুধু দুঃখজনকই নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো- আহত সাংবাদিকরা মামলা দায়ের করতে গেলে শাহবাগ থানা এখনো মামলা রুজু করেনি এবং অভিযোগ গ্রহণেও গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ ওঠে।
সাংবাদিকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রবণতার অংশ। তারা বলেন, সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ, তাদের কণ্ঠরোধের যে কোনো প্রচেষ্টা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে।
বিবৃতিতে হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে, ভয়ভীতি দেখিয়ে বা দমন করে সত্য প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। দেশের সব ক্যাম্পাস সাংবাদিক এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়।
সংসদে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তির পাশাপাশি জ্বালানি সংকট, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধীদের প্রতিনিধিত্ব এবং বহিষ্কৃত জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্ক ছিল সোমবারের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একই সময়ে সরকার সংসদে বিরোধীদের আলোচনার সুযোগের কথা বললেও বিরোধীদল জামায়াত রাজপথ ও সংসদ—দুই জায়গাতেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
একাধিক বিল পাসকে কেন্দ্র করে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ ও ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ নিয়ে বিরোধীদলের আপত্তির মধ্যেই সংসদে এসব বিল পাস হয়। বিলগুলোর বিরোধিতা করে বক্তব্য দেওয়ার পর অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। পরে মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ ভবন ত্যাগ করেন তারা। বিরোধীদলের নেতারা এ ঘটনাকে সংসদের ইতিহাসে ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।