জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, জামায়াতের এই নেতার আদর্শ অনুসরণ করতেন জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদেরা।
আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘আল্লামা সাঈদীর রায়: ন্যায়ভ্রষ্ট বিচার, গণহত্যা ও আওয়ামী সন্ত্রাস’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠান ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়। এতে দেলাওয়াার হোসাইন সাঈদীর দুই ছেলের পাশাপাশি জামায়াতের কয়েকজন সদস্য বক্তব্য রাখেন।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম বলেন, ‘২৮ ফেব্রুয়ারির যে আজাদির লড়াই, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম আমাদের শিখিয়েছেন আমাদের নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেই লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করে কিন্তু ২০২৪ সালে জুলাই বিপ্লব হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের যে শহীদরা আছে, শহীদ আবু ওয়াসিম, শহীদ আলী রায়হান, শহীদ শান্ত ও শহীদ ইসমাইলসহ অসংখ্য শহীদের আপনি জীবনী পাবেন; যারা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী হুজুরের যেই আদর্শ, যে বয়ান, সেটাকে তারা লালন করত; সেটা ধারণ করত।’
আওয়ামী লীগ আমলে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তারপর ব্যাপক বিক্ষোভে নেমেছিল জামায়াত। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্ত হাতে দমন করেছিল। মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। পরের বছর আপিলের রায় হয়, তাতে তাঁর সাজা করে আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়। কারাবাসের মধ্যেই ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
অনুষ্ঠানে ২০১৩ সালের রায়ের কথা স্মরণ করে করে বক্তব্য দেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আইনজীবী দলের অন্যতম সদস্য, ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান, যার বাবা জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীরও একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল।
মীর আহমেদ বিন কাশেম বলেন, ‘আমরা জানতাম, রায় কী হতে চলেছে। সাক্ষীকে ‘গুম’ করা হয়েছে। ... আমরা মামলা করা অবস্থায় আইন পরিবর্তন করা হয়েছে, আমরা যারা নিয়োজিত আইনজীবী ছিলাম, তারা বুঝতে পারছিলাম যে রায়টি কোন দিকে যাচ্ছে। আমরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যেহেতু হরতাল চলছে, হরতালে আমরা কেউ আদালতে যাব না। সেদিন দুপুরে আমরা নামাজ পড়তে দাঁড়াতেই কল আসছে, পাখির মতো তিনজনকে “শহীদ” করা হয়েছে।’
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শামীম সাঈদী বলেন, ‘আমরা পরবর্তী প্রজন্ম। আমরা একটা সঠিক ইতিহাস গোটা জাতির কাছে পেতে পারতাম। কিন্তু এই ইতিহাসকে অতীতে যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁরা ইতিহাসকে নিজের মতো করে ব্যবহার করছেন। আজকে আমি স্মরণ করি শহীদ ওসমান হাদীকে। যে কি না সত্যের কথা বলতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন।’
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আরেক সন্তান মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আল্লামা সাঈদীর কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য, রুদ্ধ করে দেওয়ার জন্যই তাকে শতাব্দীর নিকৃষ্টতম মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছিল। তাকে আধিপত্যবাদীরা, সাম্রাজ্যবাদীরা ভয় পেত। কারণ, তিনি ছিলেন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমীন, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী। যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে সংসদ সদস্য নাজিব মোমেন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিমও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।