ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে তিনি অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি সংস্কার ইস্যুতে একমত হলেও পরবর্তীতে সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে “টালবাহানা” করছে। তাঁর মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতেই বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন বিরোধীদলীয় নেতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং “জুলাই সনদ” বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ইইউ মিশন বিরোধীদলীয় নেতার কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চায়। জবাবে শফিকুর রহমান জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার, গণভোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তাঁর দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রগতি ধীর। তাঁর ভাষায়, “সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি বিভিন্ন জায়গায় একমত হলেও পরবর্তীতে বাস্তবায়নের প্রশ্নে তারা টালবাহানা করছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।”
বৈঠকে শফিকুর রহমান দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সহিংসতা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিরতা এবং একাধিক স্থানে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয় নির্বাচনকালীন পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, সফররত ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক ভারসাম্য নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তারা আগামী নির্বাচনকে আরও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে কিছু সুপারিশও বিরোধীদলীয় নেতার কাছে তুলে ধরেন।
ইইউ মিশনের প্রধান ইভারস আইজবসের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা, ডেপুটি চিফ অবজারভার ইন্টা লেইস, লিগাল এনালিস্ট ইরিনি মারিয়া গোওনারি এবং রায়ান ইসলাম।
বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।