ডিজেল সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও কৃষি সম্পাদক কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিমের পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সেচনির্ভর কৃষি ব্যবস্থায় ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট উৎপাদন ব্যয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য এখনও কৃষকের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।
মাঠপর্যায়ের তথ্য তুলে ধরে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বোরো মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে সেচ ব্যয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। আগে যেখানে সেচে ব্যয় হতো প্রায় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।
গাজীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে না। এতে ফলন হ্রাসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং জমির উৎপাদনশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ধানের বাজারদর সেই অনুপাতে বাড়েনি। মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি ধান ক্রয় কার্যক্রমের সীমিত পরিসর এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকাও এই সংকটকে আরও তীব্র করছে।
এই পরিস্থিতিতে কৃষি খাতকে টিকিয়ে রাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সেচ মৌসুমে ডিজেলে লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি প্রদান, গ্রামীণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সৌরচালিত ও বিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে প্রণোদনা দেওয়া।
এ ছাড়া সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে বৃহৎ পরিসরে ধান ক্রয়, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে জোরদার তদারকি এবং বিভিন্ন জেলায় খাদ্য গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে ধান সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কৃষি খাতে জ্বালানি ও সেচ ভর্তুকি একটি কার্যকর নীতি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশেও অতীতে এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে উৎপাদন হ্রাস, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এ জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি জরুরি কৃষি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে।’
‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় স্বৈরাচারী কায়দায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, এ ধরনের গ্রেপ্তার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির জন্য রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির দোকান, সবজির দোকান, চায়ের দোকান এমনকি মোড়ের রিকশাচালকদের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।