জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে ‘নির্মূল’ করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই মন্তব্যকে ‘অরাজনৈতিক, অসাংবিধানিক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশোভন’ আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘ভয়েস অব কনসাস সিটিজেন (ভিসিসি)’। সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ভুইয়া প্রশ্ন তুলে বলেন, “ওবায়দুল কাদেরের জায়গায় কি এখন ফখরুল সাহেব নিয়েছেন?” রোববার (২৬ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ভিসিসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে যেন ‘পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির কণ্ঠের প্রতিধ্বনি’ শোনা যাচ্ছে। তার মতো একজন ‘মেধাবী, শিক্ষিত ও মার্জিত’ রাজনীতিকের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেশবাসী প্রত্যাশা করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘নির্মূলের’ আহ্বান জানানো শুধু অরাজনৈতিক নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। এমন বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেতিবাচক বার্তা দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, “বিএনপি মহাসচিবের কণ্ঠে এই ধরনের বক্তব্য দেশবাসীর মনে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে। শাসক দলের কর্তা ব্যক্তিরা কি নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে নিজেদের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও ব্যক্তিত্বকেও পদদলিত করতে দ্বিধা করেন না?” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে রাজনীতিতে আসলে পরিবর্তন কোথায়? আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপি, আর ওবায়দুল কাদেরের পরিবর্তে মির্জা ফখরুল—এইটুকুই কি পরিবর্তন? এই সামান্য পরিবর্তনের জন্যই কি আমাদের সন্তানরা রক্ত দিয়েছে?” বিবৃতিতে ভিসিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের শত শত রাজনৈতিক নেতার মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি ব্যতিক্রমী অবস্থান তৈরি করেছিলেন তার ভাষা, বাচনভঙ্গি ও রাজনৈতিক শালীনতার কারণে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই বক্তব্য সেই অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, “তার শব্দচয়ন, উচ্চারণ ও ভাষাজ্ঞান তাকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। যদি সেই অবস্থার অবনতি ঘটে, তাহলে আগামী প্রজন্ম কাকে অনুসরণ করবে—এই প্রশ্ন এখন সামনে আসছে।” জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ‘নির্মূলের রাজনীতি’ কোনো শুভ ফল বয়ে আনবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, “দেশবাসী রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা দেখতে চায়, প্রতিহিংসা নয়। নির্মূলের রাজনীতি নয়, গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হওয়া উচিত মূল ভিত্তি।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ‘অগণতান্ত্রিক ও উসকানিমূলক’ ভাষা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আবারও সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। টিআই/