চট্টগ্রামের রাউজানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত বিএনপি কর্মী কাউসারুজ্জামানের লাশ নিয়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও গ্রামবাসী। আজ শনিবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত রাউজানের চারাবটতল এলাকায় এ অবরোধ চলে। অবরোধকারীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে আলটিমেটাম দেন। খুনিদের প্রকাশ্য এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তাঁরা।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং লাশ রাখার খাটিয়া দিয়ে সড়ক অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শত শত নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন এবং খুনিদের বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় সড়কটির দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ায় দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, আজ বিকেল চারটা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে সন্ধ্যায় লাশ দাফনের পর মামলা দিতে পরিবারকে থানায় আসতে বলা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাউসারুজ্জামানের ওপর গত দুই বছরে আরও কয়েকবার সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। এবার গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করেছে। তবে কী নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিরোধ, সেটি পরিষ্কার জানেন না তাঁরা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কাউসারুজ্জামান গতকাল শুক্রবার রাত তিনটার দিকে তাঁর নানাবাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে হেঁটে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে সাত–আটজন অস্ত্রধারী তাঁর ওপর হামলা করে। তাঁর পিঠে গুলি লাগে। স্বজনেরা খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। আজ ভোরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিএনপি নেতা হত্যার খবর শুনে সড়কে নেমে এসে বিক্ষোভ করেন কয়েক শ নারী পুরুষ
বিএনপি নেতা হত্যার খবর শুনে সড়কে নেমে এসে বিক্ষোভ করেন কয়েক শ নারী পুরুষছবি: প্রথম আলো
নিহত কাউসারুজ্জামানের বাবা আবুল কালাম বলেন, ‘আমার ছেলে বিএনপির সমর্থক। নানা অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তার ওপর আরও একাধিকবার হামলা হয়েছে। এবার তাকে গুলি করে মেরে ফেলল। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’
পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একই উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে আবদুল মজিদ (৫০) নামে এক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি অলিমিয়াহাট বাজার এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে ৫ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মুহাম্মদ জানে আলম (৪৮) নামের আরেক যুবদল নেতাকে মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার সাড়ে তিন মাস পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ২০ মাসে রাউজানে রাজনৈতিক হানাহানি ও অন্যান্য বিরোধে মোট ২২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৬টি রাজনীতিসংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হচ্ছে। এ সময় শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, গ্রামবাসী ও স্বজনেরা সড়ক অবরোধ করায় যানজট হয়েছে। বেলা তিনটা থেকে সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। জানতে চাইলে ওসি সাজেদুল বলেন, ২০২৫ সালে কাউসারুজ্জামানের বিরুদ্ধে থানায় বিস্ফোরণ আইনে একটি মামলা হয়। আর কোনো মামলা নেই।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন জাপানি বিনিয়োগ এবং এর ফলে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়ে এ বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।
নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটায় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) কচুকাটা খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমলোচনা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে সংঘটিত লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে দু’দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।