দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে ক্রয়াদেশের অনিশ্চয়তায় কঠিন সময় পার করছে। একইসঙ্গে এ শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস খাতের সংকট কাটাতে সরকারকে দ্রুত ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি সতর্ক করে বলেন, গার্মেন্টস খাত ধসে পড়লে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিও টিকে থাকতে পারবে না।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এ শিল্পের সংকটকে আরও তীব্র করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা। ক্রয়াদেশ বাতিল, প্রত্যাহার কিংবা আগের তুলনায় কম ক্রয়াদেশ পাওয়ার কারণে তৈরি পোশাক খাত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।
শুধু শিল্পমালিকরাই নন, এ খাতে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনও সংকটের মধ্যে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ঘরভাড়া, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, যাতায়াত ও চিকিৎসা খরচসহ জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয়ের চাপ শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রথমেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং উৎপাদনের গতি বাড়াতে হবে। উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হলে অন্যান্য সমস্যাও যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করে সমাধানের পথ বের করা যাবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিল্প বাঁচলে শুধু মালিক বাঁচবেন না, দেশও বাঁচবে। তাই শিল্প উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি এ শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের সুরক্ষায়ও সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, যেকোনো ব্যর্থতা দেশের সামগ্রিক ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই।







