জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মানসিকতা ব্রিটিশ আমলের শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের পরিবর্তে জনগণের অধিকার ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুন বাংলাদেশে আর কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা চলতে দেওয়া যাবে না।
রোববার সকালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রাহ্মণবিল এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বগা সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘আমি ক্রেডিট চাই না, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বগা সেতু চাই।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকেই তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সেতুটি নির্মাণের জন্য চেষ্টা শুরু করেন। সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় মন্ত্রী নিজে বাউফল পরিদর্শন করেন।
তিনি বলেন, একটি জনবিচ্ছিন্ন মহল বগা সেতু নির্মাণ বন্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে। তবে যত ষড়যন্ত্রই হোক, বগা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবেই, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, বগা সেতু কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এটি বাউফলের সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা। সেতুটি নির্মিত হলে বাউফলসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে। কে কৃতিত্ব নেবে বা কার নামে সেতুটি পরিচিত হবে, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করাই তার প্রধান লক্ষ্য।
সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে বগা সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। জবাবে মন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। মানুষের প্রতি তাদের আন্তরিকতা সম্পর্কে সরকার অবগত। প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরুর বিষয়ে বিশেষভাবে তদারকির নির্দেশনা দিয়েছেন।
জনগণের অধিকার ও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, এলাকার প্রকৃত মালিক জনগণ, আর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা তাদের সেবক। তার কোনো কর্মী কিংবা পরিবারের কেউ অন্যায় করলেও জনগণ যেন তাকে শাসন করেন। তাতে কাজ না হলে নিজেই সেই দায়িত্ব নেবেন।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলকে জনগণের ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এলাকার চেয়ারম্যানসহ অন্য জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের মতামত, অধিকার ও মর্যাদাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।
আগামী দিনে স্থানীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রেও জনগণের স্বাধীন মতামত ও সিদ্ধান্তের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, জনগণ যাদের দায়িত্ব দেবেন, তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
মতবিনিময়কালে স্থানীয় হিন্দু পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ সময় তিনি সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার, পারস্পরিক সম্মান, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দেন।
এ সময় বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাহমুদুল হাসান খানসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।







