জাতিসংঘের অধিবেশন কাভার করতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন গাজী টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল। হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে তাঁর কাছে পৌঁছে যায় অ্যাম্বুলেন্স। এরপর দ্রুত তাঁকে নেওয়া হয় নিউইয়র্কের এলমহার্স্ট হাসপাতালে। চিকিৎসকেরা জানান, অল্পের জন্য স্ট্রোকের হাত থেকে বেঁচে গেছেন তিনি।
এদিকে নিজের মৃত্যুর আশঙ্কা থেকে ছেলেকে দিয়ে সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করানো এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতাকে ‘ম্যাজিকেল’ বলে বর্ণনা করেছেন এই সাংবাদিক।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অসুস্থতা থেকে বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মাহমুদ সোহেল। সেখানে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে তখন গভীর রাত, বাংলাদেশে দিন। অসুস্থ হওয়ার পর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স এসে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, অল্পের জন্য স্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।
জীবনে প্রথমবারের মতো তাঁর মনে হয়েছিল, পৃথিবীতে তাঁর সফর হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে। মৃত্যুর আশঙ্কা থেকে ১২ বছর বয়সী ছেলে আরিজ মাহমুদকে মোবাইল ফোনে সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করতে বলেছিলেন তিনি। তাঁর ছেলে ২৬ পারা পবিত্র কোরআনের হাফেজ।
পোস্টে মাহমুদ সোহেল লেখেন, আল্লাহ তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। মহান সৃষ্টিকর্তা তাঁকে নতুন জীবন দিয়েছেন। এ জন্য তিনি সেজদাবনত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অসুস্থতার সময় দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে সহায়তা করায় আলমগীর হোসেন ও ফারুক বিপ্লবের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এই দুই ব্যক্তি অতি দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ছাড়া অসুস্থতার খবর পেয়ে যারা তাঁর জন্য দোয়া করেছেন ও শুভকামনা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অসুস্থতার সময় অনেকের ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকের বার্তার উত্তর দিতে পারেননি মাহমুদ সোহেল। এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি জানান, বাংলাদেশে ব্যবহৃত তাঁর মোবাইল ফোনটি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ কারণে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি এবং বার্তার উত্তরও দেওয়া সম্ভব হয়নি। আপনজনদের কাছে এ জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলেও জানিয়েছেন মাহমুদ সোহেল। তবে এখনো শ্বাসকষ্ট রয়েছে। এ অবস্থায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। অফিস থেকে দুই মাসের ছুটিতে রয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পিআইবির সহপাঠীদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় মাহমুদ সোহেলের গুরুতর অসুস্থতার খবর জানানো হয়। ওই বার্তায় বলা হয়, গাজী টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ও ডিআরইউর তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এলমহার্স্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য সাংবাদিক সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চাওয়া হয়।
মৃত্যুর আশঙ্কা থেকে ফিরে আসার এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাহমুদ সোহেল তাঁর জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।








