বিরোধী দলের রাজনৈতিক শূন্যতা ও রাজনীতিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেই লংমার্চ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং তা জনগণের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের দায় বিএনপি সরকারের নয় দাবি করে তিনি এর জন্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (ঢাকা)-এর পুনর্মিলনী ও বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘লংমার্চ কর্মসূচি দেওয়ার কিছু নেই। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলে একটি রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তাদের রাজনীতিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মানুষের কাছে দেখানোর জন্য একটা কিছু করতে হয়। এ কারণে তারা লংমার্চের কর্মসূচি নিয়েছে। এর কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং এটি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ থেকে গ্যাস পাচার করে দিয়েছে বিএনপি সরকার—বিষয়টি এমন নয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি সরবরাহে পড়েছে। বিশ্বের যে অঞ্চল দিয়ে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি আসার কথা, সেখানে এখন যুদ্ধ চলছে।

তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে। মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস আসা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকায় গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, সরকারের একের পর এক নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে আপনারাই জানেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এর আগে চীন সফরের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই সফরেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী বলেন, সমাজে যারা অস্থিরতা তৈরি করে, তাদের দমনে পুলিশ যথাযথ ভূমিকা রাখছে। কিশোর অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২০০ থেকে ২৫০ জনকে প্রতিদিন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের তুলনা টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এখন যে পরিস্থিতি, এর চেয়ে ভালো পরিস্থিতি আর কখন ছিল? সেটা আমাদেরকে তারা বলুক।’

অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা, সাবেক শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।