পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক
নানা ইস্যুতে তৎপর বিরোধী শিবির

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দেওয়া এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশে তাঁর তীর্যক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে আসায় সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশি জার্নালিস্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া (বিজেআইএম)। এর মধ্যেই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার মক্কা ডিফেন্স প্যাক্টে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। ফলে তাঁর নাগরিকত্ব বিতর্কের পাশাপাশি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনাও আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াতে ইসলামী সরকারকে গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা জোরদার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে দলটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা জানিয়েছে। বিএনপিও দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
কূটনীতিতে নতুন বার্তা সরকারের
সদ্য নিয়োগ পাওয়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে প্রতিমন্ত্রীর পাল্টা মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উদ্যোগে গঠিত ‘মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট’-এ বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। ফলে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ঘিরে নাগরিকত্ব বিতর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের সম্ভাব্য নতুন কূটনৈতিক অবস্থানও আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে সরকার প্রশাসনিক ও সামাজিক নীতির ক্ষেত্রেও একাধিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের জন্য সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে, যাতে জননিরাপত্তা, সন্ত্রাস, মাদক, মানবপাচার, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ মোকাবিলায় বাহিনীটির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকার আইনশৃঙ্খলা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে দাবি করে বলেছেন, পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে, যদিও এর গতি ধীর হতে পারে। স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সময়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও এর প্রভাব অর্থনৈতিক সম্পর্কে পড়বে না।
এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী অনুষ্ঠানমালা শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর উদ্বোধন করবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন আগের নির্বাচনের তুলনায় আরও ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
সরকারের জন্য একই দিনে বড় চাপ হয়ে এসেছে আইনশৃঙ্খলা ও বিচারিক কার্যক্রম ঘিরে একাধিক ঘটনা। জুলাই আন্দোলনে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার কমিশনের প্রস্তাবিত আইন নিয়েও মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ও মাঠের নিয়ন্ত্রণে নজর বিএনপির
ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখার বার্তা দিয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নেতাকর্মীদের দলের নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পর দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়টিও সামনে এনেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান জানিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থী দেওয়ার নীতিতে থাকবে এবং দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে মাঠপর্যায়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগও অব্যাহত রয়েছে। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভের পাশাপাশি পাল্টা কর্মসূচি হয়েছে। একই এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের আধিপত্য ও ইজারা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সিরাজগঞ্জে বিএনপির সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনায় জেলা বিএনপি নয় সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে।
দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় সাংগঠনিক ব্যবস্থারও নজির দেখা গেছে। জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি দখলের অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকার পরিচালনার পাশাপাশি মাঠের দলীয় শৃঙ্খলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ এখন বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
লংমার্চে বিরোধী রাজনীতি সংগঠিত করছে জামায়াত
বিরোধী রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্য নিজেদের অবস্থান আরও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নকে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দাবি হিসেবে সামনে রেখে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক রাখার কথা জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে জোটটি।
বিরোধী দলের ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়েও জামায়াতের মধ্যে নতুন কাঠামোর ইঙ্গিত মিলেছে। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে এবং এর সদস্যদের প্রশিক্ষণ চলছে। শিগগিরই এর সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিষয়ে নির্দিষ্ট নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে সরকারের ওপর গঠনমূলক চাপ তৈরি এবং ভবিষ্যতে সরকার পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বিরোধী দলকে সহিংসতার পরিবর্তে গঠনমূলক সমালোচনার পথে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে সংসদ ও রাজপথ—দুই ক্ষেত্রেই একটি সংগঠিত বিরোধী রাজনৈতিক ভূমিকা তৈরির চেষ্টা করছে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট।
তবে দলটির মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডও আলোচনায় এসেছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার একটি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াত প্রতিবাদ জানিয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামে দলটির এক সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা হয়েছে। যশোরের কেশবপুরে সরকারি সম্মানির তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় দুই জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি নিয়েও জামায়াতকে নজর দিতে হচ্ছে।
১৮০ দিনের ব্যর্থতার অভিযোগে সরকারবিরোধী চাপ বাড়াচ্ছে এনসিপি
সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডকে ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারের ১৮০ দিনে ১৩ খাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বলেছেন, বিএনপি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে ছয় মাসের সাফল্যের যে চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।
এনসিপি রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টিও সামনে এনেছে। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে দলটি সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি করেছে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে।
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিয়েও সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সমালোচনা করেছে এনসিপি। দলের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আগামী বর্ষায় একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না করার দাবি জানিয়েছেন। ফলে সরকারকে ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের হিসাব দিতে বাধ্য করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এবং নাগরিক অধিকার—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে এনসিপি বিরোধী রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে।
আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে সরকারের সমালোচনা বাড়ছে
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে থেকেও সমালোচনা ও উদ্বেগ সামনে এসেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে দাবি করেছে, গত তিন মাসে নথিভুক্ত ৯৩৪টি হত্যামামলা হয়েছে, যা গড়ে প্রতিদিন ১০টির বেশি হত্যার ঘটনা নির্দেশ করে। দলটির অভিযোগ, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও ছয় মাসে সরকার কোনো প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে সিপিডির অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় সরকারের রাজস্ব ঘাটতি, শিল্প খাতে সংকট ও কর্মসংস্থান হারানোর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেও দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে। যশোরে আওয়ামী লীগ নেতা খয়রাত হোসেনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিলেটে নাশকতার মামলায় আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের আসামি করার ঘটনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও অধিকার প্রশ্নে আলোচনায় ছাত্র রাজনীতি
ছাত্র রাজনীতিতেও দলীয় শৃঙ্খলা, ক্যাম্পাসের অধিকার ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ; তিনটি বিষয় সামনে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ফজলুল হক মুসলিম হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভোস্টের অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে ডাকসু। একই সঙ্গে ডাকসুর সাহিত্য পত্রিকা ‘আভাস’-এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও জোরদার হচ্ছে।
অন্যদিকে ছাত্রদল ও যুবদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ঘিরে মাঠপর্যায়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। হরিরামপুরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগে বিক্ষোভ হয়েছে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পাল্টাপাল্টি ইউনিয়ন কমিটি গঠনের জেরে ছাত্রদলের সব ইউনিট কমিটি বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
এদিকে নোয়াখালীতে ছাত্রশিবিরের এক কর্মী ও দুই সমর্থক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এহসান উল্লাহ পিয়ালকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ছাত্র রাজনীতিতে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয়টিকে সামনে এনেছে।
রাজনৈতিক বার্তা
২৪ আগস্টের রাজনৈতিক প্রবাহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, সরকার ছয় মাস পূর্তির পর প্রশাসনিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা ও কূটনীতিতে নিজেদের কার্যক্রম দৃশ্যমান করার চেষ্টা করছে; কিন্তু একই সময়ে বিরোধী দলগুলো সরকারের কার্যকারিতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
দ্বিতীয়ত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কটি সরকারের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্নে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তাঁর মন্তব্য প্রত্যাহার ও নাগরিকত্বের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি যত বাড়বে, বিষয়টি সরকারের কূটনৈতিক ভাবমূর্তির সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।
তৃতীয়ত, জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট রাজপথের কর্মসূচির পাশাপাশি ছায়া মন্ত্রিসভা, সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সংসদীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি সংগঠিত বিরোধী কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে এনসিপি সরকারের ১৮০ দিনের হিসাব সামনে এনে নিজস্ব অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করছে। ফলে আগামী দিনের রাজনীতিতে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর প্রতিযোগিতা শুধু রাজপথে নয়, সংসদ, প্রশাসন, গণমাধ্যম, নীতি ও বিকল্প সরকার পরিচালনার সক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।








