সরকারের বিশেষ নজর পররাষ্ট্রে
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নাজুক, অভিযোগ বিরোধীদের

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের কূটনৈতিক কার্যক্রমে জোর দেওয়ার বিষয়টি সমনে এনেছে।
একদিকে বিরোধী দলগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সরকারের ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে সরকার রোহিঙ্গা সংকট, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতিতে সক্রিয়তার বার্তা দিচ্ছে।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনের হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। নিহতরা হলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী। শনিবার তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ, সিআইডি ও গোয়েন্দা সংস্থা।
ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও নিন্দা দেখা দিয়েছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান চারজন হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রংপুর মহানগর জামায়াত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভও করেছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
একই সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলামের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগ করে দিয়েছে সরকার। রোববার প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে জারি করা পরিপত্রে হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ করা হয়েছে।
হুমায়ুন কবিরের দায়িত্বের মধ্যে রাখা হয়েছে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয়, অনাবাসী বাংলাদেশি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগের বড় অংশ তার দায়িত্বের আওতায় পড়ছে। অন্যদিকে শামা ওবায়েদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণ, আইসিটি, সমুদ্র আইন ও সমুদ্র সম্পদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি।
সরকার: আইনশৃঙ্খলায় চাপ, পররাষ্ট্রে নতুন দায়িত্ব কাঠামো
রংপুরের চারজন হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের জন্য নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে একটি পরিবারের চার সদস্যের এমন হত্যাকাণ্ড জননিরাপত্তা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ মোকাবিলায় রাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। ফলে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে সরকার পররাষ্ট্রনীতিকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব স্পষ্ট করেছে। হুমায়ুন কবিরকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের মতো সরাসরি কূটনৈতিক বিষয় দেওয়া হয়েছে। আর শামা ওবায়েদের দায়িত্বে রাখা হয়েছে মানবাধিকার, জলবায়ু, সমুদ্র, বিশ্ব স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির মতো দীর্ঘমেয়াদি ও বিশেষায়িত ক্ষেত্র।
রোহিঙ্গা সংকটের প্রায় এক দশক পূর্তির সময় এই দায়িত্ব বণ্টন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইতোমধ্যে বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে নিতে হবে এবং এর টেকসই সমাধান শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারেই খুঁজতে হবে।
বিএনপি: আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর বার্তা
বিএনপির রাজনীতিতে স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টা লক্ষনীয় এসেছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেউ প্রার্থী হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। বিএনপি স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার নীতিতে থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এর পাশাপাশি দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর-নিকলী আসন ঘিরে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান এলাকায় ছিলেন না। অন্যদিকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদাকে প্রধানমন্ত্রী নিজের গাড়িতে তুলে নেওয়ার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির বিভাজন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জামায়াত ও ১১ দল: চার হত্যায় উদ্বেগ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মাঠে নামার হুশিয়ারি
রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটির রংপুর মহানগর শাখাও। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
জামায়াতের এই প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক বক্তব্যের অন্যতম প্রধান জায়গা হয়ে উঠছে। একই সময়ে ১১ দলীয় ঐক্য সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের সমালোচনা করে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে।
জোটের অভিযোগ, সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, চাঁদাবাজি, সার ও জ্বালানি সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বেড়েছে। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন।
জামায়াতের আমির একই দিনে ২০২৪ সালের আন্দোলনকে চূড়ান্ত যুদ্ধ নয়, বরং চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি বা মহড়া হিসেবে মন্তব্য করেছেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি জামায়াতের রাজনৈতিক বক্তব্য আরও বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতির সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে।
এনসিপি: সংসদীয় কমিটিতে সরকারি দলের চাপের অভিযোগ
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সরকারি দল নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে রোববার সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এনসিপির এই বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা ইস্যুর বাইরে সরকারের জবাবদিহির আরেকটি ক্ষেত্র সামনে এনেছে। বিরোধী দলীয় সদস্যদের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকগুলোকে সরকারি কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ, অনিয়ম শনাক্ত এবং তা জনসমক্ষে তুলে ধরার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, সরকারের ১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পনার কারণে জনভোগান্তি বেড়েছে। সরকার নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার না করে সাফল্যের চিত্র তুলে ধরছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সরকারের ১৮০ দিনের ‘ব্যর্থতার চিত্র’ তুলে ধরতে দলটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনও ডেকেছে।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলে সরকারকে ঘিরে সমালোচনা
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ছয় মাসে সরকার একটি কথাও রাখতে পারেনি। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট এবং দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির একাংশে সুনীল শুভ রায়কে কো-চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যানের মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যশোর জেলা কমিটির সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মো. এহসান উল্লাহ পিয়ালকেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ছাত্র রাজনীতি: আইনশৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা দুদিকেই প্রশ্ন
ছাত্র রাজনীতিতেও আইনশৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন সামনে এসেছে। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ফেরিঘাটে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং এর জেরে নৌ-যোগাযোগ বন্ধ থাকার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সহিদুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নাটোরের লালপুরে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল বন্ধ করতে ‘১৪৪ ধারা জারি হয়েছে’ বলে মাইকিং করার অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মারুফ আলীকে শোকজ করেছে জেলা ছাত্রদল।
অন্যদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মী ও দুই সমর্থক আহত হয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের বৈঠকও হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সুযোগ তৈরির বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়।
রাজনৈতিক বার্তা
এদিনের রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুইটি বার্তা হলো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সরকারের জন্য রাজনৈতিক জবাবদিহির বড় পরীক্ষায় পরিণত হচ্ছে এবং পররাষ্ট্রনীতিতে সরকার দায়িত্ব ও কাজের ক্ষেত্র আরও স্পষ্টভাবে ভাগ করে দিতে চাইছে।
রংপুরের চারজন হত্যার ঘটনা শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধের তদন্তের বিষয় নয়; বিরোধী রাজনীতির জন্য এটি জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু, মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং ঘটনার নৃশংসতা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও উগ্র হিন্দুগুষ্ঠীগুলোর অব্যাহত অপপ্রচার পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলছে।
অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদকে প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে দায়িত্ব বণ্টন সরকারের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারকে দুই ভাগে সাজানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। হুমায়ুন কবিরের হাতে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের দায়িত্ব থাকায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি, পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক ফোরামের তাৎক্ষণিক ইস্যুগুলোতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে শামা ওবায়েদের দায়িত্বে থাকা মানবাধিকার, জলবায়ু, সমুদ্র, বিশ্ব স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক কূটনীতি দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক এজেন্ডাকে প্রতিনিধিত্ব করছে। সরকারি পরিপত্রেও এই বিভাজন স্পষ্ট করা হয়েছে।
ফলে একদিকে ঘরের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা, অন্যদিকে বাইরে কূটনৈতিক ভারসাম্য ও জাতীয় স্বার্থ—দুই ক্ষেত্রেই সরকারের কার্যকারিতা এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসছে। বিরোধী দলগুলো এই দুই ইস্যুকে কতটা তথ্যভিত্তিক ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক বক্তব্যে রূপ দিতে পারে, সেটিই আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।








