রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনে সরগরম রাজনীতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জনে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দিনভর সরগরম ছিল দেশের রাজনীতি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি। এর মধ্যেই নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে শুক্রবার দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাব্য খবর প্রকাশের পর স্পিকারের দেশে ফেরার সময় এগিয়ে আনার বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাঁর সেই সুযোগ রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে সরকার জানে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এনসিপি রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের পর গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, রাষ্ট্রপতিকে অনেক আগেই বিদায় করা উচিত ছিল।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাব্যতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন সরকার দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি সামনে এনেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের অবসর, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও বিচার বিভাগে বদলির মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও এসেছে।
সরকার: রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যেই সাংবিধানিক ‘অপশন’ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন—বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পরই তাঁর ‘সাবেক’ এই মিত্র পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী রোববার তাঁর দেশে ফেরার কথা থাকলেও সময়সূচি এগিয়ে শুক্রবার দুপুরে দেশে ফিরছেন তিনি। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবরের সঙ্গে স্পিকারের দেশে ফেরার সময় এগিয়ে আসার বিষয়টি যুক্ত করে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করতে চাইলে অথবা স্বাস্থ্যগত বা যেকোনো কারণে চাইলে তাঁর সে অপশন আছে; কিন্তু আমরা তো জানি না।’ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ‘কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা’ নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনার পাশাপাশি সরকার অর্থনীতিকে বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যও ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে গোপালগঞ্জে এজলাসে এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর দিকে কাচের পেপার ওয়েট ছোড়ার অভিযোগ ওঠার পর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজন মিয়াকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-১-এ সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
সরকার পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার তিনজনসহ ১৭ জন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের সক্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বিএনপি: কৃষি প্রণোদনা অনুষ্ঠানে এমপির পাঁচ ঘণ্টা দেরি
বরিশাল সদর উপজেলার কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির সরকারি অনুষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন বরিশাল সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর শতাধিক কৃষকের অনেকে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বাড়ি ফিরে যান। এ ঘটনায় আয়োজক ও কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জামায়াত: গাজী নজরুলের নারী কেলেংকারি নিয়ে চাপ
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনায় বৃহস্পতিবার সবচেয়ে সরব ছিল জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অনেক আগেই বিদায় করা উচিত ছিল। তাঁকে এখনো রাষ্ট্রপতি পদে রাখা বিএনপির জন্য বড় ভুল এবং এ ভুলের ফল তারা পদে পদে টের পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পাশাপাশি জামায়াতের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল সাতক্ষীরা-৪ আসনের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দলীয় তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন ও ‘পর্দা লঙ্ঘনের’ প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে জামায়াত। বুধবার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের পর বৃহস্পতিবার স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে দলটি।
তবে দল থেকে বহিষ্কার করলেই গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে কি না, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, দলীয় বহিষ্কারের চিঠির ভিত্তিতে ইসির কিছু করার নেই। স্পিকার রেফার করলে ‘ডিসপিউট’ বা বিতর্কের বিষয়টি পর্যালোচনা, শুনানি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে তাঁর নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান গণভোটের বৈধতা নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, গণভোট অবৈধ হলে সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে সংসদ ও রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
জামায়াতের নেতারা জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিও জোরালো করেছেন। দলটির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেছেন, জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের অবস্থান জাতির জন্য শুভ নয়।
এনসিপি: পদত্যাগ করলেই হবে না, রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে জামায়াতের পাশাপাশি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলেই হবে না, পদত্যাগের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
জামালপুরে এক পথসভায় নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতির গণহত্যায় সমর্থন রয়েছে এবং দুর্নীতিরও প্রমাণ রয়েছে। তাঁকে অবিলম্বে অপসারণ করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এনসিপির অন্য নেতারাও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিপ্লবীদের কয়েকজনের সরকারে যোগ দেওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। তাঁর মতে, বিপ্লবীদের সরকারের বাইরে থেকে ‘জুলাই দর্শন’ প্রতিষ্ঠা করা উচিত ছিল।
এদিকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্য আফতাব মজুমদারকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ: সাবেক নেতার মৃত্যু, বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ও আদালতে মামলা
সিরাজগঞ্জে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারাবন্দী আওয়ামী লীগ নেতা বাবলু মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা কাজী মিজানুর রহমানের বসতঘরে লুটপাট ও বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী।
এদিকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ২৩ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলামসহ চারজনকে আগামী ৩ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে বলা হয়েছে।
ইসলামী দল: জামায়াতকে ঘিরে সমালোচনা, ধর্মমন্ত্রীর সুস্থতায় দোয়া
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, একটি বিশেষ দল মিথ্যাবাদী, ধোঁকাবাজ ও প্রতারক হিসেবে জনগণের কাছে প্রকাশ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে ধর্মমন্ত্রী আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের দ্রুত রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
অন্যান্য দল: রাষ্ট্রপতি ইস্যুর বাইরে সংবিধান সংস্কার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দাবি
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনার মধ্যেই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। তিনি বলেছেন, শুধু নির্বাচন নয়, সংবিধান ও রাষ্ট্রের ক্ষমতাকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারও জরুরি।
অন্যদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ঘোষিত অঙ্গীকার অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন ৬৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, গণরায়ের প্রতি অনীহা ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে রাষ্ট্রীয় রূপান্তরের সম্ভাবনা বিপন্ন হতে পারে।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙার চেষ্টার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন দেশের ৩৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁরা ভাস্কর্যটি যথাযথ মর্যাদায় পুনঃস্থাপন ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ছাত্র রাজনীতি: ছাত্রদলের বহিষ্কার, বৃক্ষরোপণ; শিবিরে ‘ফিমেল জোন’ বিতর্ক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য শের আলীকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে রাজধানীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করেছে ছাত্রদল।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ‘ফিমেল জোন’ চালু করাকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এক পক্ষ এটিকে পর্দানশিন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ বললেও অন্য পক্ষ নারী শিক্ষার্থীদের স্যানিটেশন, ওয়াশরুম ও নিরাপত্তা সংকট সমাধানের আগে আলাদা বসার ব্যবস্থা চালুর অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনৈতিক বার্তা: রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনায় নতুন ক্ষমতার সমীকরণের ইঙ্গিত
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাব্য খবরকে ঘিরে বৃহস্পতিবারের রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—দেশের সাংবিধানিক কাঠামো ও ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। একদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর, অন্যদিকে স্পিকারের নির্ধারিত সময়ের আগে দেশে ফেরা এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগের ‘অপশন’ থাকার কথা বলা—সব মিলিয়ে বিষয়টি আর নিছক গুঞ্জনের পর্যায়ে থাকছে না।
জামায়াত রাষ্ট্রপতির দ্রুত বিদায়ের দাবি তুলেছে। এনসিপি পদত্যাগের পর গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে। একই সময়ে রাষ্ট্রপতির পদে থাকা নিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং সংসদীয় ভূমিকা সামনে আসছে। ফলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রশ্নটি এখন কেবল একজন ব্যক্তির পদে থাকা বা না থাকার বিষয় নয়; এটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ভারসাম্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ক্ষমতার ভবিষ্যৎ বিন্যাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে উঠছে।
আগামী দিনে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে বা পদত্যাগ না করলে—দুই পরিস্থিতিতেই রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন অধ্যায় তৈরি হতে পারে। পদত্যাগ হলে কে কীভাবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব নেবেন, আর পদত্যাগ না হলে বিরোধী দল ও রাজপথের চাপ কতটা বাড়বে—এই দুই প্রশ্নই এখন বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।









