ইনসাফভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে নবীজির আদর্শের বিকল্প নেই: রফিকুল ইসলাম খান

বর্তমান বৈশ্বিক ও জাতীয় সংকটে ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ ও জীবনাদর্শের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, রাসূল (সা.)-এর জীবনাদর্শ শুধু ইতিহাসের পাতা কিংবা ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনের নানা সংকট মোকাবিলায় তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল অডিটোরিয়ামে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) উদ্যোগে আয়োজিত ‘সীরাহ কনফারেন্স-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘রাসূল (সা.)-এর জীবনাদর্শ কেবল ইতিহাসের পাতা বা ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমান বৈশ্বিক ও জাতীয় সংকটে একটি ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে তাঁর সুন্নাহ ও জীবনাদর্শের কোনো বিকল্প নেই।’
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা মহৎ চিকিৎসাপেশায় আছেন, আপনাদের প্রতিটি সেবা হতে পারে শ্রেষ্ঠ ইবাদত, যদি তা নবীজির দেখানো মমতা, সততা ও ইনসাফের আলোকে হয়।’
বিএমইউ এনডিএফের সভাপতি ডা. এম জি ফারুক হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসার প্রভাষক ও ইসলামিক স্কলার ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা সিটি দক্ষিণের আমির মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল, বিএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম, খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন, এনডিএফের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. একেএম ওয়ালিউল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. আতিয়ার রহমান এবং আদ্-দীন ফাউন্ডেশনের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কুইজের চূড়ান্ত পর্ব ও টপিক প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
প্রধান আলোচক ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার বলেন, মহানবী (সা.) ছিলেন রাহমাতুল্লিল আলামিন, বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ। তাঁর মানবিক গুণাবলি অনুসরণ করে চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘একজন চিকিৎসক যখন রোগীর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন, তখন তিনি কেবল শারীরিক চিকিৎসাই করেন না, বরং তিনি রাসূলের সুন্নাহ পালন করেন।’
ইহকালীন মোহের ঊর্ধ্বে উঠে মহানবী (সা.)-এর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আমানতদারিতাকে পেশাগত জীবনের পাথেয় হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. এম জি ফারুক হোসাইন বলেন, একজন চিকিৎসকের কাছে মানুষ তার সবচেয়ে অসহায় মুহূর্তে ছুটে আসে। তখন শুধু চিকিৎসাবিদ্যা নয়, প্রয়োজন হয় পরম মমত্ববোধের।
তিনি বলেন, ‘আজকের এই সীরাহ কনফারেন্সের মূল উদ্দেশ্যই হলো আমাদের চিকিৎসকদের মাঝে সেই নববী চরিত্রের স্ফুরণ ঘটানো। পেশাগত কাজের পাশাপাশি আমরা যেন নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারি, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
আলোচনা পর্বে বক্তারা চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা, সততা ও মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।







