পাবনায় মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর, হাতেনাতে আটক সনাতনী শিক্ষার্থী
গণপিটুনির পর পুলিশের কাছে সোপর্দ

পাবনা শহরে মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগে প্রান্থ কুমার দাস (২৫) নামে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সনাতনী শিক্ষার্থীকে আটক করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন পাবনা ইস্কন মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
আটক প্রান্থ কুমার দাস পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নওগাঁর আত্রাই থানার সুধিরপুর এলাকার প্রশান্ত চন্দ্র মন্ডলের ছেলে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে মন্দির খোলার পর প্রান্থ সেখানে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি মন্দিরের ভেতরে বিভিন্ন স্থাপনা ও সামগ্রী ভাঙচুর শুরু করেন। একপর্যায়ে মন্দিরের প্রতিমাতেও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভাঙচুরের শব্দ ও ঘটনা টের পেয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের লোকজন সেখানে ছুটে যান। এ সময় তারা প্রান্থকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রান্থের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রান্থ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে। মন্দিরে প্রবেশের পর তার মানসিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় তিনি ভাঙচুর শুরু করেন।
ওসি বলেন, ‘সে (প্রান্থ) মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল, মন্দিরে ঢোকার পর মানসিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় মন্দিরের সবকিছু ভাঙচুর শুরু করে। ওই সময় ওরাই (মন্দির কর্তৃপক্ষ) তাকে আটক রাখে। পরে আমরা তাকে নিয়ে এসে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছি।’
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত কি না, ভাঙচুরের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না এবং প্রান্থের মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি চিকিৎসা নথিতে কতটা নিশ্চিত, সেসব বিষয় তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।








