৪৮ বছর পরও বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু জনগণ: তারেক রহমান
গণতন্ত্র ফেরাতেই বিএনপির প্রতিষ্ঠা

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পরও বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই দলটির প্রধান লক্ষ্য।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর প্রতি অভিনন্দন জানান।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়েছিল। মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে দলটির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া তাঁর নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার মাধ্যমে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকার দাবি
বিএনপি শুধু গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেই নয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দেশে যখনই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা প্রাণ দিয়েছেন ও আহত হয়েছেন, তাদের অবদানও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশে যখনই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিচালনার সময় সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‘দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসান’
দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের অবসানের পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বিএনপি সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে দলের প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন। আগামী দিনগুলোতেও তারা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
‘জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণীতে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জনগণের ভূমিকাকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।
তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা ধরে রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীর প্রতিও শুভেচ্ছা জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।







