গুমের শিকার ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস আজ
কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরিই বড় চ্যালেঞ্জ

আজ ৩০ আগস্ট, গুমের শিকার ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এমন এক সময়ে দিবসটি এসেছে, যখন বাংলাদেশে গুমের পুরোনো ঘটনাগুলোর বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভবিষ্যতে গুম বন্ধে কার্যকর আইন তৈরির প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
গুম শুধু একজন মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে একটি পরিবারও বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে থাকে। মানুষটি বেঁচে আছেন কি না, কোথায় আছেন, কখনো ফিরবেন কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর মেলে না। জাতিসংঘও গুমকে শুধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, তার পরিবার ও সমাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সৃষ্টিকারী গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই গুমের অভিযোগ ছিল রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মী, বিরোধী মতের ব্যক্তি এবং সাধারণ নাগরিকের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গুমের বিভিন্ন ঘটনা নতুন করে সামনে আসে। আলোচনায় আসে ‘আয়নাঘর’সহ গোপন বন্দিশালার বিষয়ও।
এবারের দিবসে সরকারের পক্ষ থেকে গুমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুমকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। সরকার বলছে, অতীতের ঘটনাগুলোর তদন্ত ও বিচারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুম ঠেকাতে আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে দেশে কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা বা রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি। নিজেও গুমের শিকার হওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার এক অনুষ্ঠানে তাঁর ৬১ দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। যদিও বাগেরহাটের মংলায় সরকারের একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে মিরাজ শেখ নামে এক ব্যক্তিকে উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।
তবে গুমবিরোধী প্রস্তাবিত আইন নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে সেই অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনীর হাতে থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও গুম কমিশনের সাবেক সদস্যরা। তাঁদের মতে, স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত না হলে জবাবদিহি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
ফলে এবারের দিবসটি শুধু অতীত স্মরণের নয়। সামনে এখন তিনটি বড় প্রশ্ন: যারা এখনো নিখোঁজ, তাদের কী হয়েছে? দায়ীদের বিচার কতটা নিশ্চিত হবে? এবং এমন ব্যবস্থা কি তৈরি হবে, যাতে বাংলাদেশে আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় বছরের পর বছর দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতে না হয়?
গুমের ইতিহাসের সত্য উন্মোচন এবং ভবিষ্যতে তার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করাই তাই এবারের দিবসের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।









