৬৪ জেলায় ৬৪ জন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ থাকলে মন্দ হতো না: রুমিন ফারহানা
‘টুকু আসে টুকু যায়’; জ্বালানি সংকট নিয়ে কটাক্ষ

জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ-গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ রসিকতা করে বলছে—‘টুকু আসে, টুকু যায়’। তার ভাষ্য, একদিকে তেলের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের জন্য মানুষকে হাহাকার করতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন।
রুমিন বলেন, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। জ্বালানির সংকটে সাধারণ মানুষের জীবন যেমন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তেমনি শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তার পাশাপাশি গ্যাস সংকটও মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
বাজার পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কষ্টের চিত্র টিসিবির ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ লাইনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রুমিন বলেন, একদিকে সরকার এক কোটি কর্মসংস্থানের কথা বলছে, অন্যদিকে দেশে এরই মধ্যে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হলে কর্মসংস্থানের সংকট আরও বাড়বে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় যদি ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতেন, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসত। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
রুমিনের অভিযোগ, জনভোগান্তি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতেই সংসদে মন্ত্রীরা নানা ধরনের বাকচাতুরি করছেন। বাস্তব সংকটের সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে কথার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তার বক্তব্যে জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও আইনশৃঙ্খলা—এই চারটি বিষয়কে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়। জনগণের দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।







