সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ভাগনীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব প্রবাসী এক ব্যক্তির পাঠানো অর্থ তার স্ত্রী ও স্ত্রীর মামা আত্মসাৎ করার ও তার স্ত্রীকে বসতভিটা থেকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে বসবাস করানোর অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নারী ও তার মামা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টিলাগাঁও গ্রামে।
অভিযুক্তরা হলেন ওই গ্রামের বসু মিয়ার ছেলে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইয়াকুব আলী এবং সৌদি আরবপ্রবাসী ইমান আলীর স্ত্রী রাহেলা বেগম (৩২)।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে যান টিলাগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদের ছেলে ইমান আলী। তিনি বিদেশে যাওয়ার পর তার স্ত্রী-সন্তানদের দেখাশোনায় সহযোগিতা করতেন তার মামা শ্বশুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইয়াকুব আলী। চিকিৎসা, বাজার-সদাইসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ইয়াকুব আলী তাদের সহযোগিতা করতেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
একপর্যায়ে ইয়াকুব আলী ও রাহেলা বেগমের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন ইমান আলীর পরিবারের সদস্যরা।
বিষয়টি নিয়ে রাহেলা বেগমকে পরিবারের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইমান আলী বিদেশ থেকে নিয়মিত স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য টাকা পাঠাতেন। কিন্তু ওই অর্থের একটি অংশ ইয়াকুব আলী নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দুই মাস আগে রাহেলা বেগম তার স্বামীর বাড়ির ঘর ভেঙে অন্য জমিতে গিয়ে নতুন করে ঘর নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করেন। এ ঘটনার পর থেকেই মামা-ভাগনীর সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।
রাহেলা বেগম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “স্বামী বিদেশে থাকায় তার দেখাশোনার জন্য কেউ ছিল না। তার মায়ের চাচাতো ভাই ইয়াকুব আলী মামা হিসেবে তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। বাজার খরচ, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে তিনি সহযোগিতা করেন। তাদের মধ্যে কোনো অনৈতিক সম্পর্ক নেই।”
স্বামীর ভিটা ছেড়ে অন্য জমিতে বসবাসের বিষয়ে রাহেলা বেগম বলেন, “স্বামীর বাড়ির জায়গা কম হওয়ায় বেশি জায়গায় বাড়ি করার জন্য সেখানে গেছেন।”
রাহেলা বেগমের মা নুরবানু বেগম বলেন, “তার মেয়ে স্বামীর ভিটা থেকে ঘর ভেঙে অন্য জায়গায় নিয়ে গেছে। ইয়াকুব আলীকে মেয়ের কাছ থেকে দূরে থাকার জন্য তিনি একাধিকবার নিষেধ করেছেন। কিন্তু তিনি তা শোনেননি। পরে ইয়াকুব আলী তার কাছে ইমান আলী'র কাছে টাকা পাওয়ার দাবি করেন বলেও জানান তিনি।”
নুরবানু বেগম আরও বলেন, “শেষ পর্যন্ত তার মেয়ের সংসার নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে রাহেলা এসব বিষয়ে কথা এড়িয়ে চলেন এবং বাবার বাড়িতে আসা-যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন।”
অন্যদিকে ইমান আলীর বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, “ইমান আলী বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই ইয়াকুব আলী নিয়মিত তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। পরে রাহেলা বেগমকে ইয়াকুব আলীর সঙ্গে চলাফেরা না করার জন্য বলা হলেও তিনি তা মানেননি।”
ইমান আলীর পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইয়াকুব আলী ও রাহেলা বেগমের মধ্যে বিয়ে হয়েছে বলেও তারা শুনেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা বা অন্য কোনো নথি তারা দেখাতে পারেননি।
সৌদি আরবে অবস্থানরত ইমান আলী সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক অডিও বক্তব্যে অভিযোগ করেন, “বিএনপি নেতা ইয়াকুব আলী তার স্ত্রী রাহেলা বেগমকে কোর্টে গিয়ে বিয়ে করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিদেশে যাওয়ার পর প্রতি মাসে স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য টাকা পাঠালেও ইয়াকুব আলী তার স্ত্রীকে প্রভাবিত করে সেই অর্থ নিয়ে নিতেন।”
ইমান আলী আরও অভিযোগ করেন, “ইয়াকুব আলীর প্রভাবে তার স্ত্রী তাকে না জানিয়ে সন্তানদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নাবালক একটি মেয়েকে বাল্য বিয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, ইয়াকুব আলী তার স্ত্রীকে স্বামীর বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে অন্য জায়গায় ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন।”
তবে বিএনপি নেতা ইয়াকুব আলী এসব অভিযোগকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “ইমান আলীর কাছে তার তিন লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সেই টাকা না দেওয়ার জন্যই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ভাগনী হিসেবে রাহেলা বেগমের বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল এবং তিনি তাদের দেখাশোনা করতেন। অভিযোগ ও সমালোচনা শুরু হওয়ার পর প্রায় এক মাস ধরে তিনি ওই বাড়িতে যাওয়া বন্ধ রেখেছেন।”
রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করার জন্যও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে দাবি করে ইয়াকুব আলী বলেন, “তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মামা-ভাগনীর সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা রয়েছে।” তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে চাইছেন না।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, “এসব বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”