কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ইসলামী যুব আন্দোলন নেতা খুন, আটক ৯
প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে টায়ার, বাঁশ ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে চিটাগাংরোড থেকে সোনারগাঁ পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়।
হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শেখ সিফাতসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন। তিনি জানান, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় হামলার শিকার হন বুলবুল। পরে তিনি মারা যান। ৩৫ বছর বয়সী বুলবুল শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা পশ্চিম শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহর অভিযোগ, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের রিকশা গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় তিনি মামলা করেন। ওই মামলায় স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের কথিত নেতা শেখ সিফাতসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মাছুম বিল্লাহর দাবি, ওই মামলা নিয়ে বুলবুলের সঙ্গে সিফাত ও তার সহযোগীদের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলের ওপর হামলা চালানো হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য বুলবুলকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে সিফাত ও তার সহযোগীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেয় এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় বলে পরিবারের অভিযোগ।
এদিকে বুলবুল হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সকালেই মহাসড়কে অবস্থান নেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা মহাসড়ক থেকে সরবেন না। আন্দোলনকারীদের কয়েকজন ফেসবুক লাইভে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানান।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ বলেন, বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মদনপুর এলাকায় অবরোধের প্রভাব ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।








