ভোট প্রদানের দেড় ঘণ্টা পর ‘বর্জনের’ সিদ্ধান্ত, চরমোনাইয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি
পরে মুছে গেল বর্জনের ঘোষণাও!

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের একমাত্র সংসদ সদস্য মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোট দেওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ভোটদান শেষ হওয়ার পর প্রকাশ করা সেই বর্জনের বিবৃতিই পরে দলটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে মুছে ফেলা হয়। এ ঘটনায় দলটির ভেতরে তৈরি হয়েছে বিব্রতকর পরিস্থিতি।
পরে অবশ্য ইসলামী আন্দোলনের নেতারা দাবি করেছেন, ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত থাকলেও শেষ মুহূর্তে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কারের আশ্বাস পাওয়ায় চরমোনাই পীরের নির্দেশে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভোট দেন দলের এমপি।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয় দুপুর ২টায়। ভোট গ্রহণ শুরুর মাত্র ২০ মিনিট পর, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ভোট দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। তাঁর ভোট যায় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে।
অথচ এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, বিকেল ৩টা ৫১ মিনিটে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানের নামে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়ায় দলটি ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ দলীয়ভাবে বর্জনের ঘোষণা আসে দলের একমাত্র এমপি ভোট দেওয়ার পর।
এখানেই শেষ নয়। বিবৃতিটি প্রকাশের পরপরই দলটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে গ্রুপ থেকে বিবৃতিটি মুছে দেওয়া হয়। ফলে প্রশ্ন ওঠে—দলীয় সিদ্ধান্ত যদি ভোট বর্জনই হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত জানানো হলো ভোট দেওয়ার পর কেন? আর ভোট দেওয়ার পর দেওয়া বর্জনের বিবৃতিই বা কেন প্রত্যাহার করা হলো? ঘটনার এই সময়ক্রম নিয়েই এখন চরমোনাইয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান শুরু থেকেই ছিল স্পষ্ট। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে সমঝোতা হয়েছিল, তা অনুসরণ করা হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে দলটি ভোটদানে বিরত থাকার কথা জানিয়েছিল।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে সংসদ ভবনে গিয়ে ভোট দেন দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য অলিউল্লাহ। তিনি ভোট দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।
এর প্রায় ৯১ মিনিট পর বিকেল ৩টা ৫১ মিনিটে দলটির মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানের বিবৃতি আসে।
বিব্রতকর পরিস্থিতির পর ইসলামী আন্দোলনের নেতারা অবশ্য এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তাদের দাবি, ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন নিয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চরমোনাই পীরের নির্দেশেই দলের এমপি অলিউল্লাহকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। ফলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্জনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দেন।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
সংসদে বিএনপির সদস্যসংখ্যার তুলনায় মির্জা ফখরুলের পাওয়া ভোট বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ভোটের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। আর সেই অতিরিক্ত ভোটের একটি যে ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র এমপি অলিউল্লাহর, তা নিয়ে আর কোনো সংশয় নেই—কারণ তিনি নিজেই ফখরুলকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।









