‘বিশ্বাসঘাতকের পক্ষে মামলা লড়বেন না’ আইনজীবীদের মুফতি উসামা

‘বিশ্বাসঘাতকের পক্ষে আমরা মামলা লড়ব না, কোনো বাতিলের হাতকে শক্তিশালী করব না’—এমন শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি আলী হাসান উসামা। রিজিকের দোহাই দিয়ে অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে ন্যায়ের পক্ষে থাকা এবং মজলুমদের সহযোগিতায় আইনজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল উদযাপন কমিটি, সুপ্রিম কোর্ট শাখা এ মাহফিলের আয়োজন করে।
মুফতি আলী হাসান উসামা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে আইনজীবীদের দায়িত্ব ও নৈতিকতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইন পেশা শুধু জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার রক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে কিংবা বাতিলের শক্তিকে সহযোগিতা করে কোনো আইনজীবীর নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করা উচিত নয়।
তিনি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিশ্বাসঘাতকের পক্ষে আমরা মামলায় লড়ব না, আমরা কোনো বাতিলের হাতকে শক্তিশালী করব না।’ রিজিকের মালিক আল্লাহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রিজিকের জন্য অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা যাবে না।
ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান মুফতি উসামা। তিনি বলেন, সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের উদ্দেশ্য শুধু মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন সম্পর্কে আলোচনা করা নয়; তাঁর আদর্শ ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা।
মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে আদর্শ নিয়ে এসেছেন, তা অনুসরণ করে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার আইনজীবী সমাজের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে সম্পৃক্ত। সমাজে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের দায়িত্ব রয়েছে। মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করে এ দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে আইনজীবী সমাজকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. মসিউল আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান।
এতে আরও বক্তব্য দেন সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট আবদুল বাতেন, অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট খালিদ আহমেদ, সিনিয়র অ্যাডভোকেট আবদুল হক, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনির হোসেন, ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, অ্যাডভোকেট এস এম জাহাঙ্গীর আলম, অ্যাডভোকেট আবদুল করিম, অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়াসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা।
বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থানের শিক্ষা দেয়। সেই আদর্শ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ধারণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।









