দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন: প্রধানমন্ত্রীকে জামায়াত আমির

দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয় অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে যেমন দলকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বও তার। তাই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে।
শনিবার (২ আগস্ট) সিলেটের স্থানীয় একটি গণমাধ্যমের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দলকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব যেমন তার, তেমনি পুরো দেশের দায়িত্বও তাকে নিতে হবে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।”
এ সময় নির্বাচন কমিশন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সরকার এমন কিছু প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা নিয়ে তাদের শঙ্কা রয়েছে। তার অভিযোগ, কয়েক বছর আগে অবসর নেওয়া একজন দলীয় ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে পদায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেখেই আমরা শঙ্কিত। আবার যদি এ ধরনের পাঁয়তারা চলে, তাহলে নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা নিয়েই পুরো জাতির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হবে।”
বিএনপিরও সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর দলটি গণভোটের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে।
তিনি বলেন, “সবাই গণভোটের পক্ষে কথা বলেছিল। হঠাৎ করে তারা অবস্থান বদলে ফেলল কেন?”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠক নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের বৈঠক কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবে সেটি যদি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়ে থাকে, তাহলে ভিন্ন বিষয়। কিন্তু দুই দেশের কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকলে, সেটি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গেই হওয়া উচিত।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তারা ভারতে বসে কথা বলতেই পারেন। তিনি তো ভারতের রাষ্ট্রদূত। এখানে এসে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলা যদি সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়, তাহলে ভিন্ন বিষয়। কিন্তু যদি দুই দেশের কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে হওয়া উচিত। বিরোধী দলের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।”







