ফ্যাসিস্টের পক্ষে সক্রিয় আমলাদের খুঁজছে সরকার, আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা অন্যায্য কোনো প্রভাবকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না; বরং মেধা, সততা ও দক্ষতাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারকে টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখার বিষয়ে গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাময়িক বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা দায়ের করে বিধি অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসে।
তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সততা ও নৈতিকতা জোরদারে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগের উদ্যোগে ছয়টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ বছর আরও আটটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সিভিল সার্ভিসের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সগুলোতে দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচারবিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংসদে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সরকারি চাকরির শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এর বিপরীতে শূন্য পদের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি।
প্রশাসনের উচ্চপদগুলোর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সচিব ও সিনিয়র সচিবের ৬৯টি পদের বিপরীতে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ৬৭ জন। অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৩৭৮ জন। যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা হচ্ছে। তিনি জানান, ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশে সময় লেগেছিল ৩ বছর ৭ মাস। ৪৫তম বিসিএসে তা কমে দাঁড়ায় ২ বছর ১১ মাস ২৭ দিনে। ৪৬তম বিসিএসে সময় লাগে ২ বছর ২ মাস ৯ দিন। আর সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র ১ বছর ৭ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। একই প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি জনবল সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর হার ২৯ শতাংশ।
নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা অন্যায্য কোনো প্রভাবকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। মেধা, সততা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করে একটি নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার প্রশাসন গড়ে তোলার নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ৮ হাজার ৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে। সরকার এসব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগও গ্রহণ করেছে।







