অক্টোবরেই স্থানীয় নির্বাচন, ইউপি-পৌরসভা দিয়ে শুরু
এক বছরের নির্বাচনী রোডম্যাপ ইসির

আগামী অক্টোবর মাস থেকেই পর্যায়ক্রমে দেশের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
আগামী অক্টোবর মাস থেকে দেশের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরের নির্বাচন বাকি রয়েছে। সংবিধান ও আইনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এসব নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যেই অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কোন স্তরের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান রহমানেল মাছউদ। তবে বাস্তবতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনাই বেশি।
তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ দুটি নির্বাচন আগে সম্পন্ন করে পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচনের সময় নির্ধারণে কমিশন বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিচ্ছে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার। এর মধ্যে রয়েছে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান, বর্ষা মৌসুম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও যোগাযোগ পরিস্থিতি। এসব বিষয় পর্যালোচনার পরই চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করা হবে।
সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমন্বয়ের বিষয়ে রহমানেল মাছউদ বলেন, এখনো এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কমিশনের কাছে কোনো চিঠি আসেনি। তবে কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে সব ধরনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ শুরু হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই প্রথম ধাপের নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে কত সময় লাগতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন পর্যায়ক্রমে শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। আচরণবিধির খসড়া ইতোমধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মতামত আহ্বান করা হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর চূড়ান্ত বিধিমালা জারি করা হবে।
তিনি জানান, সংশোধিত বিধিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। একই সঙ্গে পোস্টাল ব্যালট এবং জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারের সুযোগও রাখা হচ্ছে না।
বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান রহমানেল মাছউদ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার সদস্যদের দায়িত্বে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। যেহেতু নির্বাচন অঞ্চলভিত্তিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে, তাই প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচন কমিশনার বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম ওই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই মান বজায় রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এজন্য রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম এবং ভোটারদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে তুলনামূলক বেশি সংঘাত ও সহিংসতা দেখা গেছে। এবার সহিংসতা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কমিশন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি সংসদে বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।









