যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে চীন: রাষ্ট্রদূত

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে চীন দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই নয়, বরং বিশ্বের যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করা চীনের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির অংশ। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে যাবে বেইজিং।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর ঢাকায় চীনা দূতাবাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে চীন। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য দেওয়া কোনো বার্তা নয়। আমাদের বৈদেশিক নীতিই হলো, যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধিতা করা।’
তিনি বলেন, চীন নিজেও দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি। অনেক বিদেশি শক্তি বিভিন্ন সময়ে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছে এবং এখনও কিছু মহল সেই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আপনাদের এটি বুঝতে হবে। বাংলাদেশ বর্তমানে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তা আমরা পুরোপুরি বুঝতে পারি। এ কারণেই আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে চীন বাংলাদেশের পাশে রয়েছে।’
ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, গত ৫০ বছর ধরে চীন একই নীতি অনুসরণ করে আসছে। সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিই বেইজিংয়ের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম ভিত্তি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত জানান, সফরকালে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং জনসম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে বেইজিং আশাবাদী।









