জুয়ার সাইটের কবলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, একের পর এক জুয়ার পোস্ট

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে জুয়া সংশ্লিষ্ট একটি ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন প্রকাশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি অনলাইন জুয়ার সাইটের প্রচারণামূলক পোস্ট তার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর পোস্ট সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হলেও কিছু সময় পর আবার একই ধরনের পোস্ট দেখা যায়। পরে বিব্রত পরিস্থিতির মধ্যে নিজের ফেসবুক প্রোফাইল ডিঅ্যাক্টিভ করে দেন তিনি।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলের দিকে তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি অনলাইন ক্যাসিনো বা জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রচারণামূলক পোস্ট দেখা যায়। পোস্টটিতে নতুন সদস্যদের জন্য বোনাস, ফ্রি স্পিনসহ বিভিন্ন জুয়া সংশ্লিষ্ট অফারের প্রচারণা ছিল। পোস্টের সঙ্গে একটি বিদেশি অনলাইন বেটিং সাইটের নাম ও লোগোও দেখা যায়।

বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন সরকারি মন্ত্রীর ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে কীভাবে এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ পেল। বিশেষ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা একজন প্রতিমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে জুয়া সংশ্লিষ্ট প্রচারণা নিয়ে সমালোচনা আরও বাড়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমিনুল হকের ফেসবুক থেকে পোস্টটি সরিয়ে ফেলার পরও কিছুক্ষণ পর আবার একই ধরনের পোস্ট দেখা যাচ্ছিল। ফলে ধারণা করা হয়, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বা নিয়ন্ত্রণে কোনো সমস্যা থাকতে পারে।

তবে এ বিষয়ে আমিনুল হক বা তার দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পোস্টগুলো কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে, অ্যাকাউন্টে কোনো অনুপ্রবেশ ঘটেছিল কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে এসব পোস্ট দেখা গেছে—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরে দেখা যায়, আমিনুল হকের ফেসবুক প্রোফাইলটি আর সক্রিয় নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে এটিকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া ও বেটিং সাইটের প্রচারণা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব সাইট বন্ধ ও প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
টিআই/









