মেহেরপুর সীমান্তে চারজনকে পুশইনের চেষ্টা, ঠেকাল বিজিবি

মেহেরপুরের বুড়িপোতা সীমান্ত দিয়ে চারজনকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের কারণে পুশইনের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে এক পুরুষ ও তিন নারী সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তাদের পরিচয় ও জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা বিওপি সীমান্তের খালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে চারজন ব্যক্তিকে অবস্থান করতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি জানানো হলে বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নেন।
বিজিবির বাধার মুখে ওই চারজনকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করাতে পারেনি বিএসএফ। বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১৫ ও ১৬-এর মধ্যবর্তী নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটকে থাকা চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ এবং তিনজন নারী রয়েছেন। তবে তারা কোন দেশের নাগরিক, তাদের পরিচয় কী কিংবা কীভাবে তারা সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছেন—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুশইনের আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তারা শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার নাটনা বিএসএফ ক্যাম্প রয়েছে। ওই ক্যাম্পের সদস্যদের দিক থেকেই চারজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, “ভোরে মেহেরপুর সীমান্তে চারজনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় পরিচয় নিশ্চিত না করেই মানুষকে সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের ঘটনাকে ঘিরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার আলোচনা ও প্রতিবাদও হয়েছে।









