সংসদে ঋণখেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলা না গেলে কোথায় বলবো?
প্রশ্ন নাহিদের, পাল্টা আপত্তি মিলনের

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ঋণখেলাপি ইস্যু। সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ নিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের মন্তব্যকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন। তিনি বলেন, সংসদে ঋণখেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলা না গেলে, সত্য উচ্চারণের জায়গা আর কোথায় থাকবে? তার দাবি, সংসদে যদি ঋণখেলাপি সদস্য থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ এই সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলবে।
অন্যদিকে, এমন মন্তব্যে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে পাল্টা আপত্তি জানিয়েছেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন। তার বক্তব্য, নির্বাচিত একটি সংসদকে এভাবে আখ্যায়িত করা মানে নিজেদের প্রতিষ্ঠানকেই ছোট করা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মুখোমুখি অবস্থানে যান দুই সংসদ সদস্য। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমি আমার প্রথম অধিবেশনের বক্তব্যে এখানে অনেক সম্মানিত সংসদ সদস্যের কত কত ঋণখেলাপি রয়েছে, সেই সংখ্যাও উল্লেখ করেছি। তাদের সম্মানের নাম প্রকাশ করিনি।”
তিনি বলেন, “যে দল ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিয়ে সংসদে নিয়ে আসে, এটি তাদের দায়িত্বের বিষয়। এখন যদি সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকে, তাহলে এই সংসদকে ঋণখেলাপিদের সংসদ বলবে মানুষ।”
নাহিদ আরও বলেন, “সরকারদলীয় লোকেরা যারা মেজরিটি, টু-থার্ড মেজরিটি করেছে, তারা ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে এসেছে—এটা সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বলবে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা সংসদকে সার্বভৌম বলছি। এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে না পারি, তাহলে স্পিকার, আমরা আর কোথায় বলব?”
এর আগে ফজলুল হক মিলন সংসদের ভাবমূর্তি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই সংসদকে একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা বক্তব্য রাখার সময় হয়তো খেয়াল করি না; কিন্তু অবচেতন বা সচেতন মনে এমন কিছু কথা সংসদে উচ্চারণ করি, যা আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, মর্যাদাকে খাটো করে।”
ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আজকের বক্তব্য চলাকালীন বলা হয়েছে—‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে’।”
এর সমালোচনা করে মিলন বলেন, “বাংলা ভাষায় একটি কথা আছে—‘বেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, সেই ক্ষেত টেকানো যায় না’। এই সংসদে নির্বাচিত হয়ে নিজেদের মর্যাদা নিজেরা হানি করার জন্য যদি আত্মঘাতী কথা বলি, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি বলেন, “একজন ঋণখেলাপি কখনোই সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেখানে এটিকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ কী করে বলা হয়?”
ঋণখেলাপি নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ বিষয়টিকে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ মনে করছে—এ ধরনের মন্তব্য সংসদের প্রতিষ্ঠানগত মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
টিআই/







