সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে সংসদে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত, গভীর উদ্বেগ জানাল জামায়াত

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের অব্যাহত সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশইন এবং আটকে পড়া নারী-শিশুসহ অসহায় মানুষের মানবিক সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত আলোচনা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)।
এক বিবৃতিতে তিনি জানান, কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় তাঁর আনা আলোচনা প্রস্তাবটি জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছিল এবং ১৪ জুন আলোচনার জন্য তালিকাভুক্তও ছিল। তবে আলোচনার নির্ধারিত দিনেই কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই শুধু “অনিবার্য কারণবশত” উল্লেখ করে তা স্থগিত করা হয়েছে।
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুকে এভাবে আলোচনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা গণতান্ত্রিক চর্চা ও সংসদীয় জবাবদিহিতার পরিপন্থী। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের জীবন ও রক্তের প্রশ্ন কোনো রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধার বিষয় হতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আলোচনাটি স্থগিত হওয়ার ঘটনায় জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক নিরাপত্তার চেয়ে অন্য কোনো স্বার্থ বা অস্বস্তি অগ্রাধিকার পেয়েছে কি না। এ বিষয়ে স্থগিতাদেশের প্রকৃত কারণ স্বচ্ছভাবে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
বিবৃতিতে সংসদ সদস্য আরমান আরও বলেন, “আলোচনা স্থগিত হতে পারে, কিন্তু প্রশ্ন স্থগিত হবে না।” সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে এবং ভুক্তভোগী মানুষের অধিকার রক্ষায় আইনসম্মত, কূটনৈতিক ও মানবিক পথে তিনি সংসদের ভেতরে ও বাইরে সোচ্চার থাকবেন বলে জানান।
তিনি বলেন, মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপসের কোনো সুযোগ নেই এবং সীমান্ত এলাকায় চলমান মানবিক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সীমান্ত হত্যা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবিক সংকটের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গণে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।







