তারেক রেজার জামিন, অয়নের আবেদন নামঞ্জুর

ঝিনাইদহে ছাত্রদলের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে একই মামলায় গ্রেপ্তার যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা অয়ন রহমান খান-এর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তারেক রেজার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ঝিনাইদহ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে একই মামলায় অয়ন রহমান খানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হলে তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
আসামিপক্ষে জামিন শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন। তিনি আদালতে দাবি করেন, রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
এর আগে রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝিনাইদহ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে থেকে তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি সেখানে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিতে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে।
গ্রেপ্তারের সময় ঘটনাস্থলে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান, সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ওসি আসাদউজ্জামান জানান, হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আসামি হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২২ মে ঝিনাইদহ সফরে যান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওইদিন জুমার নামাজের পর শহরে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার পর এনসিপি নেতা তারেক রেজা বাদী হয়ে ছাত্রদলের স্থানীয় আট নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পাল্টা হিসেবে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এনামুল কবির তারেক রেজাসহ ২২ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেন। সেই মামলার ভিত্তিতেই রোববার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তারেক রেজার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এনসিপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি ও কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতেই এ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দাবি করেন, সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।









