সারাদেশে শিশু হত্যা-ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এইচআরএসএস’র

সারাদেশে ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলা শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি। একইসঙ্গে এসব নৃশংস ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা জাতিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তার মরদেহের একটি অংশ প্রতিবেশীর ঘরের খাটের নিচে এবং মাথা বাথরুমে পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তকে বাঁচাতে তার স্ত্রীও সহযোগিতা করেছেন।
এছাড়া গত ১৬ মে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দের চর গ্রামে ১০ বছর বয়সী আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাজা মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় চার বছর বয়সী লামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সংগঠনটি আরও জানায়, গত ৬ মে সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ এলাকায় চার বছর বয়সী শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বজনদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার নাটক করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত শিশু হত্যা, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এইচআরএসএস’র সংগৃহীত তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে অন্তত এক হাজার ৮৯০ জন শিশু ও কিশোরী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৩ জন নিহত এবং এক হাজার ৪০৭ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ৫৮০ জন শিশু ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব হলেও ধারাবাহিক এসব ঘটনা প্রমাণ করে বিদ্যমান ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘসূত্রতা এবং দুর্বল আইন প্রয়োগের কারণে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়ছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিষ্পাপ শিশুদের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং সমাজের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ।
এইচআরএসএস অবিলম্বে সব শিশু হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যথাযথ প্রয়োগ, ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা এবং চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে সংগঠনটি। একইসঙ্গে শিশু সুরক্ষায় নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।







