ঢাকায় পুলিশের ‘হাই অ্যালার্ট’, বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১
হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ঘিরে সতর্কতা

রাজধানীতে হঠাৎ করেই পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কর্মসূচি ও অপতৎপরতার আশঙ্কায় ঢাকা মহানগরজুড়ে জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রচারণা ও কর্মসূচির আহ্বানকে নজরদারিতে রেখে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি ও প্রবেশপথগুলোতে বাড়তি টহল জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এরই মধ্যে বিশেষ অভিযানে পোস্টার ও লিফলেটসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিএমপির একাধিক সূত্র জানায়, আগামী ১৭ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালনের আশঙ্কা থেকে এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ কারণে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ডিএমপির কন্ট্রোল রুম থেকে রাজধানীর সব থানায় বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়।
বার্তায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে নিজ নিজ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে ভোরের সময় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, অলিগলি এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো ধরনের পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ বা আকস্মিক জমায়েত ঠেকাতে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়।
পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে কিছু পোস্ট ও প্রচারণা নজরে আসে। এসব পোস্টে ১৭ মে ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয় এবং মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোকে সতর্ক করা হয়।
এর অংশ হিসেবে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বনানী থানার আওতাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মো. আশিক তপেদার (২৪) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের পোস্টার ও লিফলেট জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপি সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি কোনো সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কিনা, নাকি কেবল প্রচারণার কাজে যুক্ত ছিলেন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, “কোনো রাজনৈতিক নিষিদ্ধ সংগঠনের দিবস আছে কি নেই, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা।”
তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিষয়বস্তু আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। রাত থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে বর্তমানে দৃশ্যমান ও সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি সতর্কতা বজায় থাকবে।
টিআই/









